পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত আবেদন ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বর্তমান গতি বজায় থাকলে এই সংক্রান্ত সমস্ত আবেদনের নিষ্পত্তি হতে লেগে যেতে পারে ১২ বছর বা প্রায় ১৪৬ মাস—সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা এক হলফনামায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বীকার করে নিয়েছে খোদ ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে তালিকা থেকে বাদ পড়া অগণিত নাগরিকের ভোটাধিকার দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
কমিশনের সচিব সুজিতকুমার মিশ্রের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে পরবর্তী পাঁচ মাসে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলি মাত্র ১,২৬,১৯৪টি আবেদনের নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। শনি ও রবিবার মিলিয়ে কাজ ধরলেও মাসে গড়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে ২৫,২৩৮টি মামলা। অথচ ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭,০৫,২৩৫-এ। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বর্তমান পরিকাঠামো যে একেবারেই অপর্যাপ্ত, তা শীর্ষ আদালতে মেনে নিয়েছে কমিশন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ২৪ থেকে বাড়িয়ে সংসদীয় আসনের সংখ্যার সমান অর্থাৎ ৪২টি করার এবং সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল অফিসারদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতির আর্জি জানিয়েছে তারা।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং প্রদেশ কংগ্রেসের এসআইআর কমিটির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ বসুর করা আবেদনের জবাবেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। কমিশনের হলফনামায় স্পষ্ট হয়েছে যে, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ—অর্থাৎ ২২,২১,১১৮ জন ভোটার নিজেদের নাম পুনর্বহালের দাবিতে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষের তরফে ১৬.১০ লাখ আপত্তি জমা পড়েছে।
পরিসংখ্যানে আরও দেখা যাচ্ছে, নিষ্পত্তি হওয়া ১,২৬,১৯৪টি মামলার মধ্যে ১,১৩,৯৪৩টি ক্ষেত্রে নাম বহাল বা অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মাত্র ৮,৬৪৯টি আবেদন খারিজ হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্পত্তি হওয়া দাবির ৯২ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ভোটারদের বক্তব্য বৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে লাখ লাখ ভোটারের সাংবিধানিক অধিকার দিনের পর দিন আটকে থাকায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক পরিকাঠামো দ্রুত বৃদ্ধি না করলে আসন্ন নির্বাচনগুলিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
















