ওড়িশায় ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR প্রক্রিয়া শেষ। সোমবার প্রকাশিত হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস গোপালন জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর মোট প্রায় ২০.৫৬ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ৩০ মে ২০২৬-এ SIR প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় ওড়িশার ভোটার তালিকায় মোট ৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৯৯ হাজার ভোটার ছিলেন। প্রথম পর্যায়ের যাচাইয়ে প্রায় ২০ লক্ষ ১২ হাজার নাম বাদ পড়ে। তাঁর কথায়, “Today we have completed the SIR in Odisha, and we have published the final roll. We started the SIR exercise on 30th May 2026. On that date, we had 3,13,99,000 electors on our roll. During the first phase, 20,12,000 voters were removed for various reasons. 8,32,000 of them were dead, 8,08,000 of them shifted permanently, 2 lakh were absent, and 1.58 lakh were duplicates—they had more than one entry.” অর্থাৎ, মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার, অনুপস্থিত ভোটার এবং একাধিকবার নাম নথিভুক্ত থাকার মতো বিভিন্ন কারণে এই নামগুলি বাদ দেওয়া হয়েছে।

এরপর ৫ জুলাই প্রকাশ করা হয় খসড়া ভোটার তালিকা। সেখানে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৪ জন। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যাঁদের তথ্য ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যায়নি অথবা ভোটার সংক্রান্ত তথ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল, তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়। গোপালন বলেন, “২০২৬ সালের ৫ জুলাই আমরা খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করি। সেই তালিকায় মোট ৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩৪ জন ভোটার ছিলেন। এরপর দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়। ভোটারদের তথ্য ম্যাপিংয়ের সময় প্রায় ১৩ লক্ষ ভোটারের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো সম্ভব হয়নি। তাঁদের নোটিস পাঠানো হয়। পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় যৌক্তিক অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল এরর’ থাকা আরও প্রায় ৪৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটারকেও নোটিস দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ৫৮ লক্ষ ৩৬ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্য শোনার পর ২৪ হাজার ভোটারকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয় এবং তাঁদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।” বলা হয়, SIR চলাকালীন দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। Form 6, 7 এবং 8-এর মাধ্যমে মোট আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার Form 7 পাওয়া যায়। যাচাইয়ের পর ২০ হাজার আবেদন সঠিক বলে বিবেচিত হওয়ায় ওই ভোটারদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।

তাঁর বক্তব্য, “We have invited claims and objections; we received Forms 6, 7, and 8. We received about 57,000 Form 7. Out of that, 20,000 were found to be correct, and therefore those 20,000 were also removed. And therefore, after publication of the draft roll, we have removed 44,777 electors.” তবে শুধু নাম বাদ পড়েনি, নতুন ভোটারের নামও যুক্ত হয়েছে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর Form 6-এর মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ ৭৪ হাজার এবং Form 8-এর মাধ্যমে আরও ১৬ হাজার আবেদন পাওয়া যায়। যাচাইয়ের পর মোট ২ লক্ষ ৯০ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গোপালন বলেন, “এই একই সময়ে আমরা প্রায় ২,৭৪,০০০টি ‘ফর্ম ৬’ এবং আরও ১৬,০০০টি ‘ফর্ম ৮’ পেয়েছি; অর্থাৎ সব মিলিয়ে ২,৯০,০০০টি সংযোজন করা হয়েছে।”

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, ওড়িশায় এখন মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৩২ হাজার ৭৫৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ১ কোটি ৬১ লক্ষ ৩০ হাজার, মহিলা ভোটার প্রায় ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৯৯ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২,৭৭৪ জন। SIR-এর বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া ভোটারের হিসাব তুলে ধরে গোপালন জানান, প্রথম পর্যায়ে ২০ লক্ষ ১২ হাজার এবং পরবর্তী যাচাইয়ে আরও ২৪ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ ৫৬ হাজার। তাঁর দাবি, “It is only 6 per cent of the roll. It is very little, actually, because our rolls were good to begin with. Now the process is complete, and continuous updating is back.” SIR প্রক্রিয়া শেষ হলেও ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ফের চালু হয়েছে। নতুন ভোটার হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তি, তথ্য সংশোধন কিংবা কোনও নাম বাদ দেওয়ার জন্য Form 6, 7 ও 8-এর মাধ্যমে আবেদন করা যাবে অনলাইনে অথবা সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) কাছে।