দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে দলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ নিয়ে করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলার শুনানি মুলতুবি সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার ৪ সপ্তাহের জন্য শুনানি স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিকে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আরও ৪ সপ্তাহ সময় চেয়ে ফের চিঠি লিখলেন NCPI সাংসদরা।

তৃণমূলের টিকিটে জিতে রাজ্যে পালাবদলের পরে ২০ জন সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্‌স পার্টি’ (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন। অভিষেকের অভিযোগ, মুখে অন্য দলের কথা বললেও সংসদের খাতায়-কলমে এবং বক্তৃতার সময় তাঁদের নামের পাশে এখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (এআইটিসি) লেখা থাকছে। এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না বলে দাবি তাঁর। গত ১৯ জুন লোকসভার সদস্য নীতির ৬ নম্বর ধারা উল্লেখ করে ওই ২০ জন সাংসদের পদ খারিজের আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে পিটিশন দিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও স্পিকার কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেননি কিংবা শুনানির ব্যবস্থাও নেননি। অথচ দলবদলে কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া সত্ত্বেও লোকসভায় ওই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের আসন পরিবর্তন করে সামনের সারিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। স্পিকার ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে দলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ না করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ-সহ বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছিলেন তৃণমূলত্যাগী ও এনসিপিআইতে (NCPI) যোগ দেওয়া সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ২০ জন দলত্যাগী সাংসদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষের কাছে পিটিশন দাখিল করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার কথা ছিল দলবদলু সাংসদদের। কিন্তু তাঁরা আরও চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সেই মামলা এদিন ৪ সপ্তাহের জন্য মুলতুবি করা হয়। দলবদলু ২০ জন সাংসদের অবস্থান কী? দলত্যাগবিরোধী আইন তাঁদের ক্ষেত্রে লাগু হবে কি না? এই সংক্রান্ত মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের সলিসিটির জেনারেল তুষার মেহতার কাছে তা জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন শীর্ষ আদালতে সলিসিটর জেনারেলের বলেন, এখানে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। 

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০ জন সাংসদকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্পিকার। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে ফের একমাস সময় চেয়েছেন তাঁরা। এই নিয়ে আদালতে প্রবল আপত্তি তোলেন তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারকে কটাক্ষ করে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আদালতের অবস্থানকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন অন্য একটি সাংবিধানিক পদ। এটা কী করে সম্ভব?”

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ”ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন জমা হওয়ার পরে তিনমাস পেরিয়ে গিয়েছে। আমরা আশা করতে পারি, যতটা দ্রুত সম্ভব বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হবে।” বিষয়টি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বিবেচনা করার কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।