কয়েক দশকের পুরনো এক ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করে ভারত জেনেভায় অবস্থিত রাষ্ট্রসংঘের কার্যালয়কে (ইউএনওজি) পাঁচটি ময়ূর উপহার দিয়েছে। এর মধ্যে একটি বিরল সাদা পালকযুক্ত ময়ূরও রয়েছে। শুক্রবার আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি অরিন্দম বাগচী আনুষ্ঠানিকভাবে তাতিয়ানা ভালোভায়ার কাছে ময়ূরগুলো হস্তান্তর করেন। পাঁচটি ময়ূরের মধ্যে রয়েছে চারটি নীল ময়ূর এবং একটি সাদা পালকযুক্ত পুরুষ ময়ূর। এই নিয়ে ভারত দ্বিতীয়বার ইউএনওজি (UNOG)-কে ময়ূর উপহার দিল। এর আগে ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লি চিড়িয়াখানা থেকে প্রজননক্ষম এক জোড়া ময়ূর পাঠিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: চার FIR বাতিলের আর্জি! ফের কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ সুমিত

ভারতীয় মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "লাবণ্য, সৌন্দর্য ও সহনশীলতার প্রতীক ভারতীয় ময়ূর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশের সুরক্ষার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের প্রতিনিধিত্ব করে।" জেনেভায় ভারতের মিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, এই উদ্যোগের জন্য ভালোভায়া ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেনেভা বায়োপার্ক চিড়িয়াখানার পরিচালক টোবিয়াস ব্লাহা জানিয়েছেন, পাখিগুলোর জন্য এটি সত্যিই এক স্বপ্নের বাসস্থান হতে চলেছে। জাতিসংঘের কর্মীদের পাশাপাশি এই চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ পাখিগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকবে।

ময়ূরগুলোকে প্রথমে প্রায় তিন মাস একটি ঘেরা জায়গায় রাখা হবে; এরপর জাতিসংঘের ইউরোপীয় সদর দফতর সংলগ্ন আরিয়ানা পার্কে সেগুলোকে অবাধে বিচরণ করার সুযোগ দেওয়া হবে। আগে এই চত্বরে মাত্র একটি ময়ূর ঘুরে বেড়াত এবং সেটিকেও খুব কমই দেখা যেত। বর্তমানে যা ইউএনওজি প্রাঙ্গণ, সেটা একসময় সুইস শিল্প সংগ্রাহক গুস্তাভ রেভিলিওডের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল। সেখানে ময়ূরের উপস্থিতি বরাবরই দেখা যেত। ইউএনওজি খুব শীঘ্রই ময়ূরগুলোর নামকরণের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে বলে জানা গিয়েছে।