Site Logo

'গম্ভীর-দর্শন', উৎপল সিনহার কলম

EBBS Desk·
'গম্ভীর-দর্শন', উৎপল সিনহার কলম

[caption id="attachment_492704" align="alignnone" width="100"] উৎপল সিনহা[/caption]

Sponsored

Sranchi In Article

এ যে দৃশ্য দেখি অন্য,
এ যে বন্য...
এ ভারত সে ভারত নয়। এ এক অন্য ভারতীয় ক্রিকেট দল, অন্যরকম ক্রিকেট উপহার দিতে এসেছে বিশ্বকে, বন্যতার সঙ্গে অপরূপ শিল্পসুষমার মিশ্রণে এক অনন্য উৎকর্ষের সন্ধান পাচ্ছে বিশ্বক্রিকেট। এর পিছনে রয়েছে গুরু গম্ভীরের ক্রিকেট-দর্শন , যা বদলে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের আজন্ম লালিত মানসিকতা। বিশ্বকাপ তো আগেও ভারত জিতেছে একাধিকবার। কিন্তু এমন একপেশেভাবে, এমন দাপট দেখিয়ে জিতেছে কি ?

Sponsored

Merlin In Article

ব্যাটে, বলে, এমনকি ফিল্ডিংয়ে প্রতিপক্ষকে একেবারে হেলায় উড়িয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে এইভাবে আর কবে জিতেছে আমাদের দেশ ? কোন জাদুবলে ভারতীয় ক্রিকেটের এমন বাঁকবদল? কোন পরশপাথরের স্পর্শে এমন ভয়ডরহীন, দু্ঃসাহসী , বেপরোয়া ক্রিকেট? গুরু গম্ভীরের অনেক সিদ্ধান্তই আপনার পছন্দ না-ও হতে পারে। আপনি ওঁর হাজার সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু ওঁকে অবজ্ঞা করতে পারবেন না। স্বার্থপর ক্রিকেটকে উনি ছুঁড়ে ফেলেছেন বাউন্ডারি সীমানার বাইরে। ক্রিকেটারদের বুঝিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট সাজঘরে এখন থেকে আর কোনো স্টার থাকবে না। কারণ এখানে সবাই সৈনিক , ক্রিকেট-যোদ্ধা। বলের পর বল নষ্ট করে নিজের কেরিয়ার গড়ার স্বার্থপর সংস্কৃতি, যা অতীতে ভারতকে বহু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারিয়েছে, তা একেবারে ঢাকি সমেত বিসর্জন দিয়েছেন কোচ গৌতম গম্ভীর। বদলে দিয়েছেন ক্রিকেটারদের মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি। ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ার চেয়ে দলের জয় যে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ , তা বোঝাতে পেরেছেন দলের খেলোয়াড়দের। বুঝিয়েছেন যেন সবাই দেশের স্বার্থে, দলের জয়ের স্বার্থে ব্যক্তিগত স্বার্থ বলিদান দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। তাই ৮ মার্চের রাতে আমরা আমেদাবাদের মাঠে দেখেছি ১১ জন ক্রিকেটার নয়, যেন ১১ জন শহীদ খেলতে নেমেছেন ভারতের হয়ে, যাঁরা দেশের জন্য বলিপ্রদত্ত, যাঁরা দলের জয় ছাড়া আর কিছু ভাবতেই পারেন না। ব্যক্তিগত রেকর্ড যাঁদের কাছে তুচ্ছ।

Sponsored

Shyam Sundar In Article

মনে রাখতে হবে, আমরা সেই ভারতবাসী, যাঁরা অপুষ্টিতে জীর্ণ দেশের হাজার হাজার শিশুর অকালমৃত্যুতে উদ্বিগ্ন বা ব্যথিত হই না, কিন্তু আম্বানি- আদানিদের ঘরে হাজার হাজার কোটি টাকা ঢুকলে উল্লসিত হই। টেস্ট ম্যাচে এক ইনিংস ও ২৭৫ রানে দেশ হারলে তেমন দুঃখিত হই না, কিন্তু স্টার ক্রিকেটারের সেঞ্চুরির সংখ্যা বাড়লে তুমুল গর্ব অনুভব করি। এমনই এক চূড়ান্ত বৈষম্য ও বিচিত্র মানসিকতার দেশে , এমন এক ধারাবাহিক অবিচারের দেশে বেড়ে ওঠা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মনে কীভাবে যে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ জ্বেলে দিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর, সেই গল্পটা যেন রূপকথাকেও হার মানায়। আর সিম্ফনি বা ঐকতানের এমনই মহিমা যে, অধিনায়ক সূর্য কুমার বিশ্বকাপ জেতার পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে হাসতে হাসতে বলে দেন, ' কারোর সেঞ্চুরি হলো কি হলো না সেটা বড়ো কথা নয়, দলের প্রয়োজনের সময় ১৫ রানও সেঞ্চুরির চেয়ে বড়ো ' । বলতে দ্বিধা নেই এমন কথা বলার সৌভাগ্য এর আগে কোনো ভারতীয় অধিনায়কের হয় নি। এর পিছনেও সেই গম্ভীর দর্শন। যার ফলে একদা স্বপ্নভঙ্গের মাঠেই স্বপ্নপূরণ।
এমনকি ইতিহাস পর্যন্ত পরাজিত। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ আমেদাবাদের যে মাঠে ১ লাখ ৩০ হাজার দর্শকের সামনে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আপামর ভারতবাসীর, ঠিক সেই মাঠেই স্বপ্নপূরণ হলো ৮ মার্চের ( ২০২৬ ) রাতে।

Sponsored

Camelia In Article

তার আগের রাত, এমনকি খেলা শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে পর্যন্ত সমাজ মাধ্যম থেকে সংবাদ মাধ্যম, ক্রিকেট পণ্ডিত, বিশ্লেষক থেকে ক্রিকেটের কিছুই না বোঝা জনগণের মন খুলে গালাগালির এক এবং একমাত্র লক্ষ্য ছিলেন গুরু গম্ভীর । তীব্র সমালোচনার ক্রমাগত ছোবলে রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত, বিষে বিষে জর্জরিত কোচ গৌতম গম্ভীর কিন্তু নিজের প্রত্যয়ে ছিলেন অটল এবং লক্ষ্যে অবিচল। কোনো চাপের মুখেই নিজের স্থির সিদ্ধান্ত থেকে সরেন নি। তিনি নিজে কোনো জবাব দেন নি। আমেদাবাদে বিশ্বজয়ের রাতে তাঁর হয়ে সব জবাব দিলো তাঁর ছেলেরা, বীর যোদ্ধারা, তাঁর নির্দেশ মেনে আমূল পাল্টে যাওয়া ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

_

 

_

 

_

 

_

 

_

 

_

Related Articles

More from অন্যান্য

View All →