মুখে তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ আর সেই দলেরই একের পর এক কর্মীদের বিরুদ্ধেই তোলাবাজির অভিযোগ। বিজেপির ঘোষিত নীতি আর বাস্তবের ছবির মধ্যে যে তফাত আছে সেই ছবি আবারও প্রকাশ্যে। উত্তর দমদমে (North Dumdum) দলের প্রশিক্ষণ শিবিরের নামে ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিজেপির যুবনেতার (BJP Youth Leader) বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বারুইপুরে ট্র্যাফিক কনস্টেবলকে (Traffic constable in Baruipur) মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বিএমএস নেতা। ফলে ‘কড়া হাতে’ দল চালানোর বিজেপির ঘোষিত নীতিই এখন প্রশ্নের মুখে।
উত্তর দমদমের ঘটনায় অভিযোগের তির বিজেপির যুবমোর্চার স্থানীয় সভাপতি দেবজিৎ দত্তের (Debajit Dutta, local president of the BJP Yuva Morcha) দিকে। অভিযোগ, পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যবসায়ীর জায়গা একটি বহুজাতিক সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। দলের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য গত ২৯ অগাস্ট সেখানে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। টাকা না দিলে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ওই ব্যবসায়ীর।
ঘটনার কয়েক দিন পর ফের একই জায়গায় যাওয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ব্যবসায়ীর প্রশ্ন ছিল, প্রশিক্ষণ শিবির শেষ হওয়ার পরেও কেন ফের টাকা চাওয়া হচ্ছে? এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি বিশ্ববাংলা সংবাদ) ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পুকুর ভরাটের অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায় দেবজিৎকে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দলের কর্মসূচির জন্য ‘সহযোগিতা’ চাওয়া আর টাকা না দিলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দুটির মধ্যে সীমারেখাটা কোথায়? যদিও দেবজিতের বক্তব্য, দলের কর্মসূচির জন্য সাহায্য চাইতেই তিনি গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ীই অযথা বিবাদে জড়ান। পুকুর ভরাটের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় (BJP North Suburban District President Chandicharan Roy) অবশ্য জানিয়েছেন, তোলাবাজির অভিযোগ সামনে এলে দল ব্যবস্থা নেবে।
এর মধ্যেই বারুইপুরের ঘটনাও বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। শাহজাহান রোডে যানজটের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে এক ট্র্যাফিক কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগ ওঠে বিএমএস নেতা জলধর দাসের বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে নিজের আচরণকে ‘ভুল’ বলে স্বীকার করেছেন জলধর। বিজেপির তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, ঘটনার ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।
ফলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ‘তোলাবাজি চলবে না’ কিংবা ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়ার বার্তা আর বাস্তবের অভিযোগ এই দুইয়ের ফারাক নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে। মঞ্চে কড়া বার্তা দিলেও যদি নিচুতলায় তার প্রতিফলন না থাকে, তাহলে সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আসলে কতটা কার্যকর?
















