উত্তর ২৪ পরগনার টাকি পুরসভায় আর্থিক তছরুপের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। বুধবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রায়ের বেঞ্চ সেই মামলার শুনানি হয়। আদালতের নজরদারিতে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
নির্দেশ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের বেঞ্চের। আদালত বান্ধব হিসেবে আইনজীবী তীলক মিত্রকে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবারই সিআইডিকে নির্দেশ অবিলম্বে টাকি পুরসভা থেকে নথি সংরক্ষণ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘জনগণের করের টাকা এ ভাবে নয়ছয় করা যায় না।’’
টাকি পুরসভার পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাশ। ২০২৩ সালে একাধিক আর্থিক দুর্নীতি, পুরবোর্ড পরিচালনায় বেনিয়ম সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায় ও পরিচালিত টাকি পুর বোর্ডের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছিলেন খোদ তৃণমূল পৌর সদস্য প্রদ্যুৎ দাশ। সে সময় লিখিত অভিযোগে দায়ের করা হয়েছিল। টাকি পুরসভার পাহাড় প্রমাণ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন সেই কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাশ।
মামলাকারীর আইনজীবী সৌম্য মজুমদার ও ওমর ফারুক গাজীর দাবি, নথি অনুযায়ী টাকিতে ইছামতির বুকে ভাসমান রেস্তোরাঁ করতে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান ও তৎকালীন পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, একাধিক জমি দুর্নীতি রয়েছে। মাত্র ৪২০ টাকা লিজে 'ইট ভাটা'র ব্যবসায় ৪ বিঘে জমি পেয়েছে 'গোপাল ব্রিগ ফ্রিল্ড'। কোনও রেজুলেশনে ছাড়াই এই সমস্ত সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যান নিজেই নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে অভিযোগ, সোনার বাংলা' হোটেলের জন্য দেওয়া জমি বাৎসরিক ১২০ টাকা হরে বছরের লিজ ! সেসময় প্রবীর চট্টোপাধ্যায় নামে একজন 'লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক', তাঁর একাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঢোকে।
রাজ্য সরকারের অডিট রিপোর্টে থাকা এমনই তথ্য নিয়ে পুর প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তোলেন হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি। এপর্যন্ত সমস্ত পুরসভার পুর বোর্ড ভেঙে গেলেও এখনও তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ড রয়েছে টাকিতে। টাকির চেয়ারম্যান কি 'Almighty' সর্ব-শক্তিমান সে প্রশ্নও তোলে আদালত। এই সমস্ত দুর্নীতির তদন্তে এবার রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। আদালতের নজরদারিতেই তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আদালত। আগামী ১০ ডিসেম্বর সিআইডি-কে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে জমা দিতে হবে আদালতকে। সে দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি।















