দুর্গাপুজোর ভুয়ো টিকিট-পাস বিক্রি থেকে শুরু করে নজরুল মহোৎসব পালনে আর্থিক অনিয়মের নানা অভিযোগে বুধবার ফের ইডি-র মুখোমুখি হতে হয়েছে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ৷ একইসঙ্গে এই বিষয়ে মামলাও চলছে হাইকোর্টে।
গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন ইন্দ্রনীল সেন৷ আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের এজলাসে মামলা দায়ের করেছিলেন তাঁর আইনজীবী। বিচারপতি সেনগুপ্ত অসুস্থ হওয়ার কারণে বর্তমানে সেই মামলা শুনছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইউনেসকোর নাম ও লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহার করে ভিআইপি টিকিট বিক্রির পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ৷ এই মর্মে ইন্দ্রনীলের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় বৌবাজার থানায় ৷
ইন্দ্রনীল সেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, তাই প্রভাব খাটানোটা তার কাছে কোন কঠিন বিষয় নয়, আগাম জামিন মামলায় পর্যবেক্ষণ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের। ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোর প্রিভিউশোর টিকিট বিক্রির অভিযোগ প্রাক্তন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। রাজ্যকে ফ্লো চার্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের।
ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী জানিয়েছেন, পুজো প্রোমোটিংয়ের কাজ করেছেন ইন্দ্রনীল সেন। ইউনেস্কর ডকুমেন্ট দেখুন। চুক্তিপত্র তুলে দেন বিচারপতির কাছে । সে সময় তাঁর কাজ নিয়ে প্রশংসা করা হয়েছিল।
বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, কোন ক্যাপাসিটিতে আপনারা করেছেন? রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল কমারসিয়াল পারপাসে ব্যবহার করা যায় নাকি?
ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবি দাবি করেন, কেউ টিকিটের দাম নিয়ে আগে অভিযোগ করেনি। বিচারপতির তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন করেন প্রিভিউ শো এর নামে পাশ বিক্রি করা যায়? ইন্দ্রনীল সেনের পক্ষের তাঁর আইনজীবি বলেন, ২০২৩ সালে ফ্রি ছিল। ডিসেবেলদের জন্য ফ্রি ছিল। কেউ প্রতারণার অভিযোগ করতে পারবে না। এই বছরও তো প্রিভিউ শো হচ্ছে। ২০১৪-১৬ পর্যন্ত মন্ত্রী হওয়ার আগেও অনেক কাজ করেছে মাস আর্ট। টেন্ডার নিয়েছে। ৪০টি টেন্ডার নেওয়া হয়েছিল। এখন টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ করা হচ্ছে। নীতিন গডকরির সন্তানও একজন ব্যবসায়ী। রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানিয়েছেন,১৭ হাজার থেকে ৪. ৫ হাজার টাকা প্রতি পাসে নেওয়া হতো।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের পর্যবেক্ষণ,আপনার বিরুদ্ধে মানি ফ্লো-র অভিযোগ আছে। তদন্ত তো বন্ধ করা যায়না। আপনার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা সরাসরি গিয়েছে? প্রাক্তন মন্ত্রীর ইডি তো ১৯টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কিছু পায়নি। আগামী শুক্রবার মামলার পরবর্তী শুনানি।















