রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের কোটায় পৌঁছনোর আবহে চিকিৎসকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। মরশুমের এই পর্যায়ে এসে চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও জটিলতা সামলাতে ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর তরফে এই গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ডেঙ্গির প্রকোপ যখন অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে, তখন এই ধরনের নির্দেশিকা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

গত ৬ অক্টোবর ডিরেক্টর অফ মেডিক্যাল এডুকেশন এবং ডিরেক্টর অফ হেলথ সার্ভিসেস-এর যৌথ স্বাক্ষরে এই নির্দেশিকাটি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, কোনও ডেঙ্গি রোগীর জ্বর যদি ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলে, তবে ম্যালেরিয়া, স্ক্রাব টাইফাস, লেপটোস্পাইরোসিস বা এন্টেরিক ফিভারের মতো অন্য কোনও সংক্রমণ রয়েছে কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা করে দেখতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার কারণে শরীরে কোনও গৌণ সংক্রমণ বা এইচএলএইচ-এর মতো জটিলতা দেখা দিচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

অন্যদিকে, ১ থেকে ৩ দিনের জ্বরের ক্ষেত্রে রোগীর বিপদের লক্ষণ বা ‘ওয়ার্নিং সাইন’-এর দিকে প্রথম দিন থেকেই বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে। রোগীর পূর্ববর্তী কোনও জটিল শারীরিক সমস্যা বা কোমর্বিডিটি থাকলে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে এবং ঝুঁকি আঁচ করলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শারীরিক জটিলতা ও বিপদের লক্ষণযুক্ত রোগীদের অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশও রয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে। 

চিকিৎসক মহলের একাংশের মতে, নির্দেশিকায় উল্লেখিত বিষয়গুলি চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি হলেও মরশুমের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে তা জারি করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা যখন দ্রুত বাড়ছিল, তখন মাঠপর্যায়ে মশার লার্ভা দমন ও আগাম সতর্কতামূলক প্রচারের উপর আরও বেশি জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য দফতরের নজরদারি ও পরিকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী শিবিরও।