নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশেই সিলমোহর দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কোনও হস্তক্ষেপ না করে মামলাটি পুনরায় হাইকোর্টেই ফেরত পাঠাল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে রাজ্যের তোলা যাবতীয় অভিযোগের পরবর্তী নিষ্পত্তি করবে কলকাতা হাইকোর্টই।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন মিলন প্রধান, যাঁকে সমর্থন জানিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। তবে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক পুরনো মামলা সক্রিয় করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে। প্রথমে ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এর পরে অন্যান্য মামলাতেও তাঁকে যুক্ত করা হয় এবং হলদিয়ার একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পুলিশি তৎপরতার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিলন প্রধান। শুনানির পর ভোটের মুখে স্বস্তি দিয়ে হাইকোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সমস্ত মামলাতেই তাঁর জামিন বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের সেই রক্ষাকবচের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, নির্বাচনের সঙ্গে এই গ্রেফতারের কোনও সম্পর্ক নেই এবং ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই ধরনের সুরক্ষাকবচ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তবে সওয়াল-জবাব চলাকালীন প্রধান বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ২০০৭ সালের পর থেকে মিলন প্রধান আর কী কী অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের জামিনের নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ না দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পুরো বিষয়টি হাইকোর্টই পুনর্বিবেচনা ও নিষ্পত্তি করবে। ফলে আপাতত স্বস্তিতেই রইলেন কংগ্রেস প্রার্থী।















