মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আজ উপনির্বাচন। সকাল ৭টা থেকেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। পালাবদলের পর রাজ্যের এই উপনির্বাচনে এমনিতেই ছিল বাড়তি রাজনৈতিক নজর। তার মধ্যেই ভোটের দিন সকাল থেকে একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ক্ষোভপ্রকাশ করে তিনি জানান, "সকাল থেকে বেরোতে পারছিনা। কমিশনকে জানিয়েছি। ৭টা থেকে ভোট শুরু হয়েছে তার মধ্যেই এজেন্ট তুলে নিয়েছে আর সবাইকে ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছি, তিনি বলেছেন লিখিতভাবে সবটা জমা দিতে। "

রেজিনগরে মোট ভোটার প্রায় ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৫৭ জন। ভোটগ্রহণের জন্য রয়েছে মোট ৩১৫টি কেন্দ্র—২৮২টি মূল এবং ৩৩টি সহায়ক কেন্দ্র। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ৮১৯ জন রাজ্য পুলিশকর্মী। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লাইন দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটদানের হারও বাড়তে থাকে। সকাল ৯টা পর্যন্ত রেজিনগরে ভোট পড়েছিল ১৮.০৫ শতাংশ। আর সকাল ১১টা পর্যন্ত সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮.৭১ শতাংশে। তবে ভোটের শুরুতেই বিতর্ক তৈরি হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে। ভোট দেওয়ার পর নিজের দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে তাঁর বচসা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এই উপনির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। এবার প্রার্থী করা হয়েছে তাঁর ছেলে গোলাম নবি আজাদকে।


অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। সিপিএমের প্রার্থী সৈয়দ আসাদ আলি এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ। মোট ১৪ জন প্রার্থী এই লড়াইয়ে রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। রবিউল আলম চৌধুরীকে ঘিরেও ভোটের আগে নাটক কম হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রথমে ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পর মত বদলে ফের ভোটের ময়দানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর দলের স্থানীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কৌশল সাজাতে বৈঠকও করেন তিনি। ফলে আজ রেজিনগরে শুধু একটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন নয়—মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণ, তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই, বিজেপির চ্যালেঞ্জ এবং হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়েই নজরে রয়েছে এই কেন্দ্র।
 এখন বড় প্রশ্ন—দিনের শেষে রেজিনগরের ভোটের বাক্স কোন রাজনৈতিক সমীকরণের ছবি তুলে ধরে।