উপনির্বাচনে (By-Election) হাইভোল্টেজ কেন্দ্র হল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ (Vote) শুরু হতেই একাধিক জায়গায় উত্তেজনার অভিযোগ ঘিরে সরগরম হল এলাকা। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামে ভোট লুটের অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান (Congress Candidate Milan Pradhan)। শুধু তাই নয়, বারুণী বুথে তাঁকে পুলিশ লাঠি দিয়ে মারধর করেছে বলেও অভিযোগ তাঁর। যদিও বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের (BJP Candidate Hasi Rani Rath) দাবি, নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন: মাইক হাতে “ভোট চোর” স্লোগান, গণনাকেন্দ্রের ৫ মিনিটের ভিডিও ফুটেজ দেখান চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

ভোটের দিন সকালেই রেয়াপাড়ার শিবমন্দির-সহ একাধিক মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। পরে গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথে গিয়ে ভোট দেন তিনি। ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একাধিক বুথও পরিদর্শন করেন হাসিরানি। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত বড় কোনও সমস্যার খবর তাঁর কাছে আসেনি। ৩২৩টি বুথেই সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। হাসিরানির কথায়, “নন্দীগ্রামের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিন। কোনও রকম উচ্ছৃঙ্খলতা বা মতবিরোধে না জড়িয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দিন।” ভোটের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, “বিরোধীরা যেখানে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করছে, সেখানে বিজেপি ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যেই লড়ছে।”

আরও পড়ুন: আমৃত্যু নন্দীগ্রামের ভোটার থাকার প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর, কটাক্ষ হুমায়ুনকেও


অন্যদিকে, ভোটগ্রহণ চলাকালীনই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর অভিযোগ, বারুণী বুথে যাওয়ার পর পুলিশ তাঁর উপর লাঠি চালিয়েছে। মিলনের দাবি, “পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে ভোট করাচ্ছে। বারুণী বুথে আমার উপর লাঠি চালানো হয়েছে।” তাঁর আরও অভিযোগ, একাধিক বুথে বিজেপির লোকজন কংগ্রেসের ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দিচ্ছেন। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানান মিলন। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিভিন্ন জায়গায় ভোট লুট চলছে। এমনকী বাইক বাহিনী ব্যবহার করে বুথ দখল বা ভোটে অনিয়মের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 


বাম-তৃণমূল আমলেও ভোট লুটের অভিযোগ করত বিরোধীরা। বিজেপি আমলেও সেই একই অভিযোগ উঠল। তবে এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি শাসক শিবির। মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ চলাকালীন একাধিক বুথে ব্যাপক অনিয়ম, ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ ঘিরে পুরো এলাকায় ছড়িয়েছে উত্তেজনা।