আসন্ন পুরভোটের (Municipal Elections) আগে ইভিএম নিয়ে জট অনেকটাই কাটল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) তিনটি ওয়ার্ড এবং কাঁথি পুরসভার ভোটে ব্যবহৃত ইভিএম (EVM) বাদ দিয়ে বাকি সংরক্ষিত ইভিএমের পুরনো তথ্য মুছে ফেলা যাবে। বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওমনারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারি খাল বুজিয়ে ঘাটালে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ! অভিযোগ দায়ের হাই কোর্টে
গত পুরভোটের পর বিভিন্ন মামলার কারণে বেশ কিছু ইভিএমের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ফলে ওই যন্ত্রগুলি নতুন করে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। আসন্ন পুরভোটের জন্য পর্যাপ্ত ইভিএম হাতে নেই বলে জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের বক্তব্য ছিল, আগের মামলাগুলিতে সংরক্ষিত ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার অনুমতি না পেলে নতুন করে ভোট করাতে সমস্যা হবে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বুধবার এই নির্দেশ দিল আদালত। এর আগে সোমবার এই সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছিল হাই কোর্ট। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট থেকে সংগৃহীত ভোটের তথ্য আলাদা করে হার্ড ডিস্কে (Hard Disk) সংরক্ষণ করা সম্ভব কি না এবং আইন অনুযায়ী তা করা যায় কি না, তা জানতে চেয়েছিল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই সংরক্ষিত ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় সাতটি পুরসভায় ভোট করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং। এই সাতটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ৬,৩০১টি বুথে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে ২১ হাজার ১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯ হাজার ৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট। পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হলেও সংরক্ষিত ইভিএমের তথ্য নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে সেই সমস্যা মেটার পথ খুলল।
রাজ্যের ১২টি জেলার অন্তত ১৫টি পুরসভায় বর্তমানে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। সেখানে প্রশাসকের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছে হাওড়া পুরসভাও। সেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে পুরভোট হয়নি। হাওড়ায় (Howrah) শেষ পুরভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সেখানে আর নতুন করে নির্বাচন হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচিত বোর্ড ছাড়াই চলছে পুরসভার কাজকর্ম। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বকেয়া পুরভোট দ্রুত করানোর পক্ষে বার্তা দিয়েছেন। সেই মতো ভোটের প্রস্তুতিতে নেমেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।















