একজনকে বাঁচাতে গিয়ে বিপদে পড়লেন আরও তিনজন। শেষ পর্যন্ত বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে প্রাণ গেল চারজনের। পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) মোহনপুরে সেপটিক ট্যাঙ্ক (Septic Tank) ঘিরে এমনই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মোহনপুরের আঁতলা গ্রামে বোনের বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ করছিলেন বদির মল্লিক। কাজের মধ্যেই কোনও ভাবে গভীর ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা অবস্থায় থাকায় ট্যাঙ্কের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। ফলে ভিতরে পড়েই জ্ঞান হারান বদির।

আরও পড়ুন: দিল্লির আন্দোলনে পুলিশের মারে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন ছাত্রী, গোপাঙ্গে আঘাত: বিস্ফোরক অভিযোগ

ভাইকে বিপদে পড়তে দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান সারজিনা বিবি। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যান তিনি। এরপর মাকে বাঁচানোর তাগিদে সেখানে নামেন সারজিনার ছেলে শেখ রবিউল। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বুঝে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন পরিবারের আত্মীয় ও প্রতিবেশী শেখ সাহেব। কিন্তু তিনিও ট্যাঙ্কের ভিতরে নেমে বিপদের মুখে পড়েন। একই ভাবে সেখানে নামেন শেখ আবুকালাম নামে আরও এক স্থানীয় ব্যক্তি। তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন: Thank you অভিষেক স্যার: পাশে দাঁড়ানোয় ধন্যবাদ জানালেন দীপকে

একের পর এক মানুষ ট্যাঙ্কের ভিতরে আটকে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের উদ্যোগে পাঁচজনকেই ট্যাঙ্ক থেকে বাইরে বের করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ শেখ আবুকালাম চিকিৎসাধীন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মোহনপুর থানার পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণেই এই বিপর্যয়।