রাজ্যে বিজেপি সরকার (BJP Government) ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে তৃতীয়বার পুলিশ হেফাজতে থাকা বন্দির মৃত্যু। এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাখরাহাট (Bakhrahat, South 24 Parganas)। জানা গিয়েছে গত সোমবার অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিজেপি কর্মী বিজয় সিং ওরফে বুচাইয়ে সঙ্গে পালান রায় (Palan Roy) নামে তৃণমূলের বুথ কর্মীর কথা কাটাকাটি হয়। এরপর পালানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বাড়ির লোকেরা যেতে চাইলে পুলিশ তাঁদের জানায়, বড় বাবুর সাথে কথা বলে আধঘণ্টার মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এর কিছু সময় পরেই ধৃতের বাড়িতে ফোন করে তাঁর অসুস্থতার খবর দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছে পালানকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান তাঁর ছেলে। এরপর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়রা।ফের এক লকআপ ডেথের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে সরব রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। ঘটনার নিন্দা করে ধিক্কার জানিয়ে এই মৃত্যুর বিচার দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির।
পালানের মৃত্যুতে বাখরাহাট মোড়ের কাছে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। সুস্থ মানুষকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে তারপর এভাবে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ধৃতকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠছে। মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের পর বুধবার ভোরে পালানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এদিন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen)। সঙ্গে ছিলেন অঞ্জন দাস ও গণমঞ্চের সদস্যরা। দোলা জানান, পালানের ছেলে যখন থানায় বাবাকে দেখার জন্য ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন তখন তিনি আহত হন। এমন ভাবেই চোট লেগেছে যে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পালানের সঙ্গে যেটা ঘটেছে তার বিচার দাবি করে তৃণমূল সাংসদদের বক্তব্য, '১৯৯৫ সালে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক আপ ডেথের বিরুদ্ধে ২৫ দিন অনশন করেছিলেন ধর্মতলায়। তারপর কেন্দ্র আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। গত ১৫ বছরে জোড়া ফুলের শাসনকালে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিজেপি আসার চার মাসের মধ্যে প্রথমে বারুইপুর, তারপর হালিশহর আর এবার বাখরাহাট অর্থাৎ পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয় বরং নিন্দনীয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস সর্বসম্মতক্রমে ধিক্কার জানাচ্ছে।'
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার জন্য পুলিশকে কার্যত ফ্রি হ্যান্ড দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই পুলিশ হেফাজতেই একের পর এক মৃত্যু প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বারুইপুরের এনকাউন্টারের পর হালিশহরের তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুতেও সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজে গিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখাও করেন। বাখরাহাটে পালানের লক আপ ডেথের ঘটনায় অসহায় পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। এদিন দোলা বলেন, 'পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু বন্ধ হওয়া দরকার। বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে "প্রশাসনের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক" বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
















