সরকার বদলেছে, বদলেছে রাজনৈতিক সমীকরণও। কিন্তু গরু পাচার রোখার ক্ষেত্রে বাস্তব ছবিতে কতটা পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগের সরকারের আমলে গরু পাচার নিয়ে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এলে পাচার রুখতে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও উঠছে পাচারের অভিযোগ। টাকি রোডে (Taki Road) গরুবোঝাই গাড়ি আটক এবং ১৫টি গরু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এল।

আরও পড়ুন: সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বিছানার নীচে ৫০ লক্ষ টাকা! তল্লাশিতে তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ

বৃহস্পতিবার রাতে কালিয়ানী বিল সংলগ্ন এলাকায় একটি আইচার গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি গরু উদ্ধার করে দেগঙ্গা থানার পুলিশ (Deganga Police Station personnel)। গরুগুলিকে গাড়ির ভিতরে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল এবং তাদের পা বাঁধা ছিল। গরু পরিবহণের বৈধ নথিপত্র না থাকায় গাড়ির চালক শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে গরুগুলিকে নদিয়া থেকে ঘুরপথে বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনায় কোনও বড় পাচারচক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

আরও পড়ুন: বকেয়া সম্পত্তি করে বিপুল ছাড়! কলকাতার করদাতাদের জন্য বড় ঘোষণা পুরসভার

গরু পাচার নিয়ে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। সীমান্ত দিয়ে পাচারের ক্ষেত্রে বিএসএফের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। বিএসএফ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন, যে মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন অমিত শাহ। ফলে সীমান্ত সুরক্ষা ও পাচার প্রতিরোধে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক কম হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হল, আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে এতও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও পাচারের অভিযোগে একের পর এক ঘটনা ঘটছে কীভাবে। 

আরও পড়ুন: রাত আটটায় ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতির, ‘সময়’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কুণাল

সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাচারের ছবিও বদলাবে এমন প্রত্যাশা ছিল বিজেপি সরকারের। এখন সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন কতটা ঘটছে। তবে দেগঙ্গার এই ঘটনায় গরুগুলি ঠিক কোন পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সীমান্ত পেরোনোর পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছিল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।