ঘিঞ্জি গলি আর পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া দোকানপাটের চেনা আতঙ্ক ফিরল ঢাকার পুরনো চকবাজারে। এ বার আর কোনও প্রাণহানি না হলেও সর্বনাশা আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল কোটি কোটি টাকার পণ্য। ছোট কাটারা গলির সাততলা মনসুর খান প্লাজার বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে একাধিক গোডাউন ও দোকানের বিপুল সামগ্রী। আগুন নিভলেও এখনও ভবনের ভিতরে ঢোকার অনুমতি মেলেনি। ফলে নিজেদের সঞ্চয় আর পুঁজি আদৌ বাঁচল কি না, তা নিয়ে ভবনের বাইরে উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার সকালে পোড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যবসায়ীদের চোখেমুখে শুধুই অনিশ্চয়তার ছাপ দেখা গিয়েছে। ছ’তলার এক গোডাউন মালিক মহম্মদ রবিন ভেঙে পড়ে জানান, সাততলা ওই ভবনের পাঁচ, ছয় ও সাততলায় প্রসাধন সামগ্রী ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। আগুন ছ’তলাতেই প্রথম ছড়ায়। তাঁর গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। তিনতলা জুড়ে রয়েছে ৫০টিরও বেশি গোডাউন, যার প্রতিটিতেই ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার পণ্য মজুত ছিল। ভিতরে ঢুকতে না পারায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ।
দমকলের কাজের গতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ। মহম্মদ ইমতিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সোমবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ আগুন লেগেছিল, আর মঙ্গলবার সকাল দশটা পর্যন্ত সেখান থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এতটা সময় কেন লাগল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, এই আগুনে বহু মানুষ রাতারাতি পথের ভিখারিতে পরিণত হয়েছেন। দ্রুত আগুন নেভানোর আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজি নজমুজ্জামান জানিয়েছেন, লালবাগ, সিদ্দিকবাজার ও পলাশী-সহ দমকলের দশটি ইউনিটের চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন নেভানোর অভিযানে নেমে দমকলের চার জন কর্মী আহত হয়েছেন। আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ধারণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক ভাবে শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে বলে দমকলের অনুমান।















