আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার সরকারি হেলিকপ্টার থেকে তারকেশ্বরগামী জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টির (Shower Of Flower) ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার, নবান্ন থেকে এই অভিনব উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানান, এবছর শ্রাবণী মেলার জন্য বিশাল আকারে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার তারকেশ্বর ধাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রাবণী মেলার সূচনা করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নে রথযাত্রা (Ratha Yatra) উপলক্ষে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন এই ধরনের ধর্মীয় আয়োজনগুলিতে সরকারি উদ্যোগ সীমিত থাকলেও এবার প্রথমবার শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে বৃহৎ পরিসরে পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্যাওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেখানে পানীয় জল, ওআরএস (ORS), প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশ্রামের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাবেন জলযাত্রীরা।
তারকেশ্বর ধামের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, বাবা তারকনাথের ধামকে আরও উন্নত ও ভক্তবান্ধব করে তুলতে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এর পরেই অভিনব ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার সরকারি হেলিকপ্টার (Helicopter) থেকে তারকেশ্বরগামী জলযাত্রীদের উপর পুষ্পবৃষ্টির ব্যবস্থা করা হবে। শুভেন্দুর কথায়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় যাত্রাকে সরকার যেভাবে সহযোগিতা করে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার।
মঙ্গলবার তারকেশ্বরে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রাবণী মেলার সূচনা হবে। প্রশাসনের আশা, লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে এ বছরের প্রস্তুতি আগের তুলনায় আরও সুসংহত হবে।
তবে, শুধু তারকেশ্বরই নয়, উত্তরবঙ্গের জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন জয়ন্তী এলাকাকেও শ্রাবণী মেলার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তিনটি এলাকায় পুলিশ সহায়তা শিবির, অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র, বিশ্রামাগার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
















