যাঁরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ছেন, তাঁরাই বেরিয়েই নিশানা করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। শনিবার, কালীঘাটে (Kalighat) দাঁড়িয়ে বেইমান'দের চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি সাফ জানালেন, ফিরে আসুন। একঘণ্টার মধ্যেই ইস্তফা দেব। একই সঙ্গে অভিষেক বলেন, “দলের হারের দায়ভার যদি আমার হয়, তাহলে জয়ের কৃতিত্বও আমার।“
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে ঋতব্রত-শিবিরে নাম লেখানোই হোক, বা তৃণমূল ত্যাগ করে অন্য দলে যোগদান- সব বিক্ষুব্ধই নিশানা করছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। এদিন কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়ির সামনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই 'বেইমান'দের তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না।”
কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “একটা কেন্দ্রীয় এজেন্সির সমন আসতেই যদি আপনি চলে যান, তাহলে এটা পরিষ্কার যে আপনি লড়াই করতে চান না। আপনি ভয় পান, আর ভয় পান বলেই মাথা নত করেন। ইডিতে আমাকেও ডেকেছে, আমি তো পালিয়ে যাইনি। আমাকে ১০ বার ডেকেছে, সিআইডি ডেকেছে, রাজ্য পুলিশ ডেকেছে। আমার বিরুদ্ধে ২০-৩০টা এফআইআর হয়ে গেছে, আমি নিজেও জানি না।”
দলত্যাগী বা দলবদলুরা তৃণমূলের হারের দায় চাপাচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপর। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, সেটিকে ‘স্ক্রিপ্টড’ বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। কটাক্ষ করে বলেন, “যদি আপনি অভিষেক ব্যানার্জিকে চারটে গালি না দেন, তবে তো ইডি-সিবিআই বা ওদিকের পুলিশ আপনাকে ছাড়বে না! ওটা বললেই ওদিক থেকে বেঁচে থাকা যাবে, এটাই ডিল। যাদের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ, তারা এখন ওদিকে বালিশ চাটার জন্য ছটফট করছে।”
এর পরেই অভিষেক সাফ জানান, “যদি দলের হারের দায়িত্ব অভিষেক ব্যানার্জির হয়, তবে চব্বিশের লোকসভায় যে দল ২৯টা আসন জিতল, সেই জয়ের ক্রেডিটও তো অভিষেক ব্যানার্জির। ডিসক্রেডিট আমার হলে, জেতার সময় ক্রেডিটও আমার।”
এর পরেই 'বেইমান'দের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, “ভাই, ৬০ জন এমএলএ গেছে, কিছু মানুষ গেছে, ২০ জন এমপি গেছে। আপনারা এটাই বলছেন তো যে অভিষেক ব্যানার্জি ছেড়ে দিলে আপনারা সবাই চলে আসবেন? আমি মমতা ব্যানার্জির সামনে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, আপনারা দলে ফিরে আসুন, ১ ঘণ্টার মধ্যে আমি নিজের ইস্তফা দিয়ে দেব। আপনারা ৩টের সময় আসুন, আমি ৪টের সময় পদ ছেড়ে দিচ্ছি। কেউ আসবে না, কারণ ওনাদের আসল উদ্দেশ্য বাঁচা, দল করা নয়।” এখন এই খোলা চ্যালেঞ্জে বিরোধী শিবির কী বলে সেটাই দেখার।
















