ফ্যাসিবাদী বিজেপি (BJP) সরকারের প্রতিবাদী কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিলেন বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি মাধব জামদার। এর পরেই আর জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানিয়ে তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Benarjee)। 

দেশের নাগরিকেরা সরকারের দলদাস নয়! পুলিশও (Police) কোনও রাজনৈতিক দল-সরকার, মুখ্যমন্ত্রী অথবা প্রধানমন্ত্রীর ‘চাকর’ নয়, তাঁরা জনগণের সেবক! আর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে, প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিলেই কোনও নাগরিকের উপর ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া যায় না! কারণ, গণতান্ত্রিক ভারতে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ-আন্দোলনের সমস্ত অধিকার রয়েছে নাগরিকদের! সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই ‘দেশ-বিরোধী’ বলে দেগে দেওয়া যায় না! ফ্যাসিবাদী বিজেপি সরকারের প্রতিবাদী কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিলেন বম্বে হাই কোর্টের (Bombay High Court) বিচারপতি মাধব জামদার (Madav Jamdar)। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে ‘বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ’ ও ‘অমিত শাহ মুর্দাবাদ’ স্লোগান তোলায় এক রাজনৈতিক নেতাকে শহর থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন মুম্বই পুলিশকে। বহিষ্কারের পুলিশি ফতোয়া খারিজ করে দিয়ে আদাশের  যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। আর বম্বে হাইকোর্টের এই কড়া পর্যবেক্ষণকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্টের মাধ্যমে বিচারপতি জামদারের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

এক্স হ্যান্ডেলে বিচারপতির মন্তব্য শেয়ার করে অভিষেক লেখেন, নীরব থাকাই যখন বেশি সহজ, তখন কথা বলার জন্য সাহস লাগে। সাংবিধানিক স্বাধীনতার পাশে দাঁড়িয়ে এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতার অর্থ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য বিচারপতি মাধব জামদারকে স্যালুট জানাই।

ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে, মুম্বই শহরে। সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার মহারাষ্ট্রের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করতে গিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ‘মুর্দাবাদ’ স্লোগান ব্যবহার করেন। এরপরই মুম্বই পুলিশ ফতোয়া জারি করে এসডিপিআই নেতাকে ২ দিনের মধ্যে মুম্বই শহর ছেড়ে দেওয়ার এবং একবছর মুম্বইয়ের বাইরে থাকার আদেশ দেয়। মুম্বই পুলিশের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সৈয়দ আহমেদ।

শুক্রবার সেই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি মাধব জামদার এহেন নির্দেশের জন্য মুম্বই পুলিশকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেন। আদেশের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি জানান, সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার জন্য কীভাবে একজন নাগরিককে শহর ছাড়ার আদেশ দেওয়া যেতে পারে? পুলিশের কোন পদস্থ আধিকারিক এমন নির্দেশ জারির আদেশ দিয়েছিলেন?  সরকারি আইনজীবীর কাছে বিচারপতি জানতে চান, ‘বিজেপি সরকার মুর্দাবাদ’ এবং ‘অমিত শাহ মুর্দাবাদ’-এর মতো স্লোগান দেওয়াকে বহিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হল কেন? এই ধরনের স্লোগান কীভাবে বহিষ্কারের কারণ হতে পারে? আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগানের ভিত্তিতে এহেন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ভিন্নমতকে দমন করা যায় না। শুধুমাত্র সরকারের সমালোচনা করলেই কাউকে সমাজবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না!