Site Logo

হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে বিরোধী ঐক্যের বার্তা অভিষেকের! পাশে থাকার জন্য INDIA-র শরিকদের ধন্যবাদ

EBBS DESK·
হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করে বিরোধী ঐক্যের বার্তা অভিষেকের! পাশে থাকার জন্য INDIA-র শরিকদের ধন্যবাদ
সোনারপুরে (Sonarpur) ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত তৃণমূল (TMC) কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বেনজির আক্রমণের মুখে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের (Diamond Harbour) সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেকের পাশে দাঁড়ান লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, সপা নেতা অখিলেশ যাদব-সহ সারাদেশের অবিজেপি নেতৃত্ব। রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর জন্যে রাহুল গান্ধী, হেমন্ত সোরেন, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদবকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোদি সরকারকে 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদী' বলে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁদের পোস্টগুলি রিটুইটও করেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেকের উপর হামলার নিন্দা করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী লেখেন, “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর সোনারপুরে যে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন সাংসদের উপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়— এটা সেই জনগণের উপর আঘাত যাঁরা তাঁকে নির্বাচিত করেছেন। এটা আমাদের সেই গণতন্ত্রের উপর আঘাত যা আমাদের সকলের ঐতিহ্য।“ এর পর সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে রাহুল লেখেন, “এটি বিজেপির বদলার রাজনীতির একটি ঘৃণ্য রূপ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কখনও হিংসার কারণ হতে পারে না। কেন্দ্র এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার— উভয়েরই উচিত দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া। কোনও জনপ্রতিনিধি, তিনি যে দলেরই হোন না কেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে যেন চিন্তিত না থাকেন তা সুনিশ্চিত করতে হবে।“ রাহুলের টুইট রিটুইট করে  তাঁকে ধন্যবাদ জানান অভিষেক (Abhishek Banerjee)। তিনি লেখেন, “আপনার উদ্বেগ এবং সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ রাহুলজি। ভারতের আত্মাকে রক্ষা করতে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাঁচাতে এবং সংবিধানে বর্ণিত মূল্যবোধগুলিকে অক্ষুণ্ণ রাখতে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং সংকল্পবদ্ধ।“ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার কথা মনে করিয়ে অভিষেক লেখেন, “গত বছর, আমি ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে পাঁচটি দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি আমার দেশকে রক্ষা করেছি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছি। আজ, আমি রাজনৈতিক হিংসা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শিকার, যা তাদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের রক্ষক বলে দাবি করে।“ বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক লেখেন, “এটাই আজকের বিজেপির (BJP) বাস্তবতা। আপনি যদি তাদের সমর্থন করেন, তবে আপনি দেশপ্রেমিক। আপনি যদি তাদের প্রশ্ন করেন, তবে আপনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। আপনি যদি তাঁদের পাশে দাঁড়ান, তবে আপনাকে বাহবা দেওয়া হয়। আপনি যদি তাঁদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তবে তাঁরা আপনাকে চুপ করানোর চেষ্টা করে। আমি আমার নীতি বিসর্জন দিয়ে আরামে থাকার চেয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে ভয়ভীতির মুখোমুখি হতেও রাজি। ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী। জনগণের ইচ্ছাই চিরস্থায়ী। আমি কেবল জনগণের সামনেই মাথা নত করব, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের সামনে কখনও নয়। গণতন্ত্রকে দুর্বল করতে এবং আমাদের জাতিকে বিভক্ত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব। ভারত ঐক্যবদ্ধ এবং আমরা সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করব যে ভয়, ঘৃণা, সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি পরাজিত হয় এবং জনগণের কণ্ঠস্বর জয়ী হয়।“ একই সঙ্গে হেমন্ত সোরেনকে (Hemanta Soren) ধন্যবাদ জানিয়ে অভিষেক লেখেন, “গতকালের হামলাটি ছিল বিরোধীদলকে ভয় দেখানোর জন্য রাষ্ট্র-সমর্থিত ও কেন্দ্র-সমর্থিত একটি অপচেষ্টা। যখন প্রকাশ্যে সহিংসতা ঘটে এবং প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, তখন তা আর আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা থাকে না, বরং গণতন্ত্রের উপরই একটি পরিকল্পিত আক্রমণে পরিণত হয়।“ বিরোধী ঐক্যর বার্তা দিয়ে অভিষেক লেখেন, “আমরা ভয় পাব না। আমরা জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং এমন এক ভারতের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব, যেখানে ভয় ও সহিংসতার উপর গণতন্ত্রের জয় হবে। ভারত ঐক্যবদ্ধ।“ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও (Akhilesh Yadav) অভিষেকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা করেন। বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ অখিলেশ। ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে তিনি এসে দেখা করেন মমতা-অভিষেকের সঙ্গে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগও তোলেন। অখিলেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিষেক লেখেন, “গতকাল যা ঘটেছে তা কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তির কাজ ছিল না। সরকারকে শুধু তার কাজের দ্বারাই বিচার করা হয় না। বরং সে ইচ্ছাকৃতভাবে যা করতে বিরত থাকে, তার দ্বারাও বিচার করা হয়। একজন বিরোধী দলীয় সাংসদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা, স্পষ্ট সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পুলিশ মোতায়েন করতে অস্বীকার করা এবং সশস্ত্র গুণ্ডাদের অবাধে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এক উদ্বেগজনক সত্যকে প্রকাশ করে। এটা কোনও অবহেলা ছিল না। এটা ছিল দায়িত্বের এক সচেতন অবহেলা, যা একটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক হিংসার পথ প্রশস্ত করেছিল। কিন্তু যাঁরা মনে করেন হিংসা আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে পারেন, তাঁরা ভুল করেন। প্রতিটি আক্রমণই ভারতের জনগণের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার ব্যাপারে আমাদের সংকল্প ও অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করে।“ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) টুইটও রিপোস্ট করে পাশে থাকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। - -

Sponsored

Sranchi In Article

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →