বিলে স্বাক্ষর করে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। সোমবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোস্যাল অ্যাকটিভিজ বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। শুক্রবার, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল। সেই বিলে সই করেছেন রাজ্যপাল। এদিন প্রশাসনিক প্রশাসনিক সভা থেকে আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে প্রশাসনেক কড়া মনোভাবের বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি করবেন না।"
প্রত্যয়ী মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, আর কোনওদিন সামশেরগঞ্জ কিংবা ধুলিয়ানের মতো ঘটনা ঘটবে না। জানান, আগামী সোমবার থেকে রাজ্যে চালু হয়ে যাচ্ছে গুন্ডাদমন আইন। শুভেন্দুর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।’’
সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বহু ভুয়ো উপভোক্তা ধরা পড়েছেন মুর্শিদাবাদ থেকে। পাশাপাশি, গত সরকারে বিরুদ্ধে অন্তত ৩৪টি ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর জানান, "তদন্ত চলছে। যদি বিডিও এই কাজ করে থাকেন, বিডিও-কে জেলে যেতে হবে। বিএমওএইচ করলে তাঁর চাকরি যাবে। আমরা আরজি কর কেসে তিন জন সিনিয়র আইপিএস-কে যদি সাসপেন্ড করতে পারি, তার উপরে তো কেউ নয়! তাই ভরসা রাখতে পারেন।"
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখলাম, অন্তত ৬০০টি ভুয়ো! এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অধিকাংশই জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ বার আমরা ভালো করে নথি পরীক্ষা করছি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Bank Account) আধার লিঙ্ক, কেওয়াইসি (KYC) আছে কি না, এ সব দেখতে গিয়ে ভুয়ো উপভোক্তারা ধরা পড়ছেন। দুটো মাস সময় দিন, ভেরিফিকেশনের কাজ হবে। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পাচ্ছেন বিরোধীদলের সাংসদ-বিধায়করা। কিন্তু এদিন বহরমপুরের বৈঠকে কারও দেখা পাওয়া যায়নি। এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আজ শুধু আমার মন্ত্রী গৌরী ঘোষ ছিলেন। জেলা বিধায়ক, জেলা প্রেসিডেন্ট ছিল আমার সঙ্গে রেজিনগর যাবে বলে। এঁরা কেউ ভাষণ দেননি। সকলে বসে ছিলেন। যে দিন ডাকব, ২২ জন বিধায়ককেই বলব, চারজন সাংসদকেই ডাকব।”
















