বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের মিছিলে হামলা। বাইক বাহিনীর তাণ্ডব। মাইকে বিজেপির (BJP) গান। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের মিছিলে বাধা। মিছিলে আটকানোর জন্যে নামানো হয় তৃতীয় লিঙ্গদের মানুষদেরও। আহত তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মী-সমর্থক। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তৃণমূলের (TMC)। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারহরণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাই কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের প্রতিবাদে বুধবার তৃণমূলের ছাত্র-যুবদের মিছিলে (Rally) গুন্ডাবাহিনী হামলা। এদিনের মিছিলে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, উপাসনা চৌধুরী-সহ তৃণমূলের বহু নেতা-কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ, বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত অনুমোদিত রুটে মিছিল করলেও তাতে বিজেপির লোকেরা ঢুকে বাধা দিতে থাকে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা গড়ায় হাতাহাতি-মারপিটে। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ, পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী সেখানে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেনি। তৃণমূলের ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীদের মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। বিজেপি অশান্তির পরিবেশ তৈরি করছে।

এদিন মিছিল শুরুর সময় বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, "আমদের প্রতিবাদ মিছিল আজ। বারুইপুরে গণধর্ষণ-খুন হয়েছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে আমরা মিছিল করব। আমাদের বিভিন্ন ইস্যুতে মিছিল করার কথা আমরা কোর্ট থেকে অনুমোদন পেয়েছি। তা সত্ত্বেও বিজেপির কর্মীদের তাণ্ডব চলছে। মাইক চলছে। লাঠিসোটা নিয়ে বিজেপির কর্মীরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। মিছিল হলে আমাদের উপর আক্রমণ করবে। এটাই আমাদের গণতন্ত্র? আজ বিজেপি সরকার উত্তর দিক। পুলিশ বলছে কারা মাইক লাগিয়েছে আমরা জানি না। মাইকের অনুমতি আছে কিনা আমরা জানি না। এই গণতন্ত্র মানুষ চেয়েছে? এনকাউন্টার হচ্ছে। মানুষকে খুন করা হচ্ছে। মানুষকে মিছিল করতে দেবে না। আমাদের কর্মীদের কাছে আবেদন করব তারা শান্ত থাকার জন্য।"

প্রায় ৪১ জন কর্মী-সমর্থকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরও অনেকেই আক্রান্ত। মিছিল চলাকালীন কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম ও ঢিল। বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী রক্তাক্ত হয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ করেছেন, মেয়েদের মুখ, বুক থেকে প্রাইভেট পার্টস থেকে শুরু করে ছেলেদেরও মারা হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। 

কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন মমতা। বলেন, "হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে মিছিল করেছে ছাত্র-যুবরা। সকলের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। বিজেপির গুন্ডারা আমার বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়িয়েছে। চিৎকার করেছে। আমাকে ভয় দেখিয়েছে। ভালো করে সরকার চালাও।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দুর পুলিশকে কটাক্ষ করে বলেছেন, "আইসি তো এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এসপি জেলা সভাপতি। টোটাল ল লেস সিচুয়েশন চলছে। পুলিশ যদি আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারে... ওরা আদালতের নির্দেশের অবমাননা করেছে। আমরা আবার হাই কোর্টে যাব।"