Site Logo

আরও লম্বা বিক্ষুব্ধদের তালিকা! তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা, দলনেত্রীকে ‘লোক চিনতে’ শেখার আর্জি নেতা-কর্মীদের

EBBS DESK··1 min read
আরও লম্বা বিক্ষুব্ধদের তালিকা! তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা, দলনেত্রীকে ‘লোক চিনতে’ শেখার আর্জি নেতা-কর্মীদের

বিক্ষুব্ধদের তালিকায় আরও এক নাম যোগ হল। তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী-সহ সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। দাঁড়াচ্ছেন। তৃণমূল (TMC) ও তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চেয়েছেন চন্দ্রিমা। শুক্রবার, তিনি উপস্থিত থাকাকালীনই ঋতব্রত অ্যান্ড কোম্পানি তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখল করেন বলে অভিযোগ। এর পরেই চন্দ্রিমাকে নিশানা করলেন মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। এর পরেই চন্দ্রিমাকে নিশানা করলেন মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষ, বলেন চন্দ্রিমার মন্ত্রিত্বের তালিকা লম্বা ছিল। কিন্তু তখন অভিমান হয়নি। নেতা-কর্মীদের কথায়, “দিদি এবার মানুষ চিনতে শিখুন। চন্দ্রিমাদির মতো লোকদের উপর ভরসা না করে, যোগ্য লোকেরদের দায়িত্ব দিন।“ 

Sponsored

Sranchi In Article

৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের একের পর এক ভাঙন। বাংলায় বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী তো দিল্লিতে অজানা সদ্যোজাত রাজনৈতিক দলে যোগদান- তৃণমূলের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দলের সব শাখা সংগঠন ভেঙে দেন দলনেত্রী মমতা। বদল করেন সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে। আর সেই সময় অর্থাৎ ৩ জুন চন্দ্রিমাকে দলের সভানেত্রী করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। 

Sponsored

Merlin In Article

এদিকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কলকাতা থেকে দিল্লি- নির্বাচন কমিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধেয় আচমকা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করা ঋতব্রত-পন্থী বিধায়করা হাজির হন বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে। সেখানে গিয়ে সেটা নিজেদের দলীয় কার্যালয় বলে দাবি করেন। কার্যালয়ের ভিতরে গিয়ে বসেন ঋতব্রত, সন্দীপন, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান-সহ অনেক বিধায়ক। কিছুক্ষণ থেকে যাওয়ার সময় তালা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি দেওয়া ব্যানারের পাশাপাশি একটি প্রতীক দেওয়া ব্যানার টাঙিয়ে চলে যান ঋতব্রত-পন্থীরা। সূত্রের খবর, সেই সময় নাকি তৃণমূল ভবনে ছিলেন চন্দ্রিমা। 

Sponsored

Shyam Sundar In Article

এই ঘটনার পরে ১২ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের সব পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা। মমতার মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিলেন চন্দ্রিমা। অর্থ এবং স্বাস্থ্য— রাজ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মমতা মন্ত্রী থাকলেও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন চন্দ্রিমা। তৃণমূলের একাংশের মতে, চন্দ্রিমা ছাড়া সরকারে এত আস্থা আর কাউকে করেননি দলনেত্রী। সে কারণে দলের ভাঙন পর্বে চন্দ্রিমাকেই রাজ্য সভানেত্রী করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শনিবার মমতাকেই চিঠি লিখে পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা। এমনকী, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনে তিনি আর সই করবেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন চন্দ্রিমার পুত্র কাউন্সিলর সৌরভ বসু। এর পরে বিধানসভায় পৌঁছন স্বয়ং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। গেটে থেকে তাঁকে সাদরে আমন্ত্রণ করে নিয়ে তাঁকে ভিতরে নিয়ে যান তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত আরেক নেতা সন্দীপন সাহা। এর পরে, স্পিকার-স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর ঘরে বসে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন চন্দ্রিমা। 

Sponsored

Camelia In Article

এই বিষয় নিয়ে বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল বিধায়ক তথা কলকাতা উত্তরের জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষ বলেন, “যাঁর যাওয়ার ছিল তিনি গিয়েছেন। আমার দীর্ঘদিনের সাথী ছিলেন শুধু তাই নয়, তাঁর মন্ত্রিত্বের তালিকাও দীর্ঘ ছিল।“ এর পরে স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় কুণাল বলেন, “যখন দলের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পেয়েছিলেন, তখন এইসব অভিমান-টভিমান হয়নি গো!“

Sponsored

Techno India In Article

চন্দ্রিমার ইস্তফার পরেই ফুঁসে ওঠেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। যুবনেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল ভিডিও বার্তায় দলনেত্রীকে আর্জি জানান, “দিদি আপনি মানুষ চিনতে শিখুন। চন্দ্রিমাদির মতো লোকদের উপর ভরসা না করে, সঠিক মানুষকে দায়িত্ব দিন। তৃণমূলের ২কোটি ৬০ লক্ষ কর্মী আপনার সঙ্গে লড়াইয়ে আছে। কিন্তু আপনি সঠিক লোককে দায়িত্ব দিন।“ 

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →