পুজোর মরসুমে হকারদের জীবিকা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই কারণে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্রিট ভেন্ডর্স (জীবিকা সুরক্ষা ও রাস্তা বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৪ কার্যকর করা এবং হকারদের পুনর্বাসন নিয়ে আগামী সপ্তাহে ফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গ হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির সভাপতি অসিত সাহা।
বৈঠকের পরে তিনি জানান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সামনে দুর্গাপুজো। এই সময়টাই হকারদের বছরের সবচেয়ে বড় ব্যবসার মরসুম। তাই অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। অসিত সাহার দাবি, যেসব এলাকায় নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে বা সৌন্দর্যায়নের স্বার্থে হকারদের সরানো প্রয়োজন, সেখানে কাউকে জীবিকা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। কাছাকাছি এলাকায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলেই আশ্বাস মিলেছে।
রেল স্টেশন চত্বরের উচ্ছেদ প্রসঙ্গও বৈঠকে ওঠে। হকার নেতাদের বক্তব্য, রেলের জমিতে উচ্ছেদ রাজ্যের আইনের আওতায় পড়ে না। তবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের আবেদন জানানো হয়েছে। স্টেশনের বাইরে রাজ্য সরকারের জমিতে থাকা হকারদের ক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল মনোভাব নেওয়ার আশ্বাসও মিলেছে বলে দাবি তাঁদের।
আগামী সপ্তাহেই পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধান সচিব এবং হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে আর একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে স্ট্রিট ভেন্ডর্স আইনের বাস্তবায়ন, হকারদের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং কার্যকর বিধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়াও রাজ্যস্তরে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের আশ্বাসও বৈঠকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি হকার সংগঠনের। ওই কমিটিই ভবিষ্যতে হকার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা, পুনর্বাসন এবং আইন বাস্তবায়নের বিষয়গুলি পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছেন অসিত সাহা।
















