বিজেপির নির্বাচনী সংকল্প পত্রেই ছিল অনুপ্রবেশ রোধের প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতায় এসেই সেই কাজে হাত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর স্পষ্ট মত, "আমরা আমাদের দেশ এবং এই বঙ্গভূমিকে বাঁচাতে চেয়েছি।" রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে ৭ জুলাই দিল্লিতে (Delhi) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্ত সুরক্ষা করতে প্রথম থেকেই তৎপর শুভেন্দু। জুন মাস থেকে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল পশ্চিমবঙ্গকে সুরক্ষিত করা। আমরা ইতিমধ্যেই সীমান্তে প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দিয়েছি। কাঁটাতারের বেড়া বা সীমান্ত সুরক্ষার কাজের জন্য আরও জমি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জাতীয় সুরক্ষা যেভাবে বিপন্ন হচ্ছিল, সেখান থেকে আমরা আমাদের দেশ এবং এই বঙ্গভূমিকে বাঁচাতে চেয়েছি।"
ইতিমধ্যেই প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুভেন্দু আগেই জানিয়েছেন, “বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর এবং ১২টি জায়গায় হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এই স্টেশনগুলির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে আরও হাজার-দেড় হাজার মানুষ সেখানে রয়েছে। সীমান্ত এলাকার থানাগুলি বিএসএফ-এর সহযোগিতায় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি হোল্ডিং স্টেশনে (Holding Station) পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে প্রোটোকল মেনে তাদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলি নিয়েও কাজ চলছে।”
পয়লা অগাস্ট থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে জাতিগত জনগণনা শুরু হতে চলেছে। চূড়ান্ত হবে আগামী বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এই জনগণনা সেলফ ডিক্লারেশনের ব্যবস্থাও থাকছে। জাতিগত জনগণনায় বাস্তব চিত্র সামনে এলেই অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে গঠিত কেন্দ্রের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি খুব শীঘ্রই রাজ্য সফর শুরু করছে। প্রথম দফার আগে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে কমিটি। নতুন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে এই কমিটির সফর তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুপ্রবেশকারী কারা? কাদের রুখতে বা ফেরত পাঠাতে চাইছে রাজ্য? বিষয়টি স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "এক্ষেত্রে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। ধর্ম বাঁচানোর জন্য বা নিজের পরিচয়কে বাঁচানোর জন্য ওপার থেকে যারা এসেছেন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তৈরি করা সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট অর্থাৎ সিএএ (CAA)-এর আওতায় হিন্দু-সহ অন্য যারা এসেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই শরণার্থী।"
সিএএ এর আওতায় যাঁরা পড়েননি, সেই অনুপ্রবেশকারীদেরকে ডিপোর্ট করার কাজ, নিয়ম মেনে শুরু করেছে রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানান, "আইন ছিল ভারত সরকারের, সেই আইনে ওদেরকে জেলে না পাঠিয়ে, সরাসরি বিএসএফ-র হাতে হ্যান্ডওভারের আইন ছিল। অন্য রাজ্যে কার্যকর করেছিল। এখানে এদেরকে জামাই আদর করে, জেলে পাঠানো হত। আমাদের ভাত, আমাদের ওষুধ খেত এরা। আরামে ভিতরে বসে থাকত। এবারে একেবারে সরাসরি হোল্ডিং স্টেশন বানানো হয়েছে, বর্ডারের (Border) জেলাগুলিতে। আমরা তাড়াতাড়ি খাইয়ে-পরিয়ে, ওদিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।" অর্থাৎ একটা বিষয় স্পষ্ট, রাজ্যের সুরক্ষার, অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়ে কড়া পদক্ষেপের পাশাপাশি শরণার্থীদের প্রতি সহৃদয় শুভেন্দু। এককথায়, নরমে-গরমে শাসনব্যবস্থা চালাচ্ছেন তিনি।
















