রথযাত্রার আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। সোমবার নবান্নে (Nabanna) সমন্বয়ে বৈঠকের পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট করে দেন যে, প্রাথমিকভাবে এই ৬০টি কমিটিকে (Committee) নির্বাচিত করা হলেও আগামী দিনে আরও পর্যালোচনা করা হবে। 

আসন্ন রথযাত্রা উপলক্ষ্যে এদিন নবান্নে সমন্বয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারাও। এরপরই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা আয়োজনকারী কমিটিগুলির মুখে হাসি ফুটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এবার প্রাথমিকভাবে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "বর্তমান সরকার ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে নিয়ে এগোতে চায়"। পাশাপাশি ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা ও মেলায় তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন সরকারি ভূমিকা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার প্রথমবার রাজ্য সরকার সক্রিয়ভাবে রথযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ৭৫টি রথযাত্রা কেন্দ্রে সেবাকেন্দ্র খোলা হবে। সেখানে পানীয় জল, ওআরএস, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মিলবে। এই কাজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা’ নীতিকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে জোর দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এতদিন সরকারি ভূমিকা মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার প্রথমবার রাজ্য সরকার সক্রিয়ভাবে রথযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ৭৫টি রথযাত্রা কেন্দ্রে সেবাকেন্দ্র খোলা হবে। সেখানে পানীয় জল, ওআরএস, প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশ্রামের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা মিলবে। এই কাজে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলিকে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬০টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পুরনো কাঠের রথের সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজে এই অর্থ ব্যবহার করার আবেদনও জানান তিনি। তালিকায় কোনও ত্রুটি থাকলে ভবিষ্যতে তা সংশোধন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ শুধু সাংস্কৃতিক নয়, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যেরও অন্যতম কেন্দ্র। মাহেশ, মহিষাদল থেকে শুরু করে কোচবিহার, কাকদ্বীপ, দার্জিলিং ও দীঘা-রাজ্যের বহু শতাব্দীপ্রাচীন রথযাত্রা এই ঐতিহ্যেরই অংশ।

পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যে একটি তীর্থক্ষেত্র সার্কিট গড়ে তোলা হয়েছে। একাধিক প্রাচীন মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বাজেটে ঘোষিত ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’-এর কথাও তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, প্রাচীন মঠ-মন্দিরের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য এ বছর ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিরীটেশ্বরী-সহ একাধিক ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানের সংস্কারের কাজ হবে। পাশাপাশি ভারত সেবাশ্রম সংঘ পরিচালিত হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হয়েছে এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একাধিক প্রস্তাবও গ্রহণ করেছে সরকার। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মস্থান সংরক্ষণের জন্য ৫ কোটি টাকার কর্পাস ফান্ড দেওয়ার ঘোষণাও করেন তিনি। জলযাত্রীর জন্যেও বিশেষ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শ্রাবণ মেলা উপলক্ষ্যে শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর যাত্রাপথে, নির্দিষ্ট ব্যবধান অন্তর সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

বৈঠকে ছিলেন তথ্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা ড. সুব্রত গুপ্ত, ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকেরা। জেলার রথযাত্রা কমিটিগুলিও ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেয়। অনুষ্ঠানের শেষে কলকাতা, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটির হাতে ৫ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত রথযাত্রা কমিটিগুলির কাছেও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।