লখনউয়ের (Lucknow) একটি বেসরকারি স্কুলে পাঁচ বছরের এক পড়ুয়ার (Student) উপর ক্লাস মনিটরের (Class Monitor) মারধরের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্লাসরুমে শিক্ষিকার অনুপস্থিতির সুযোগে ক্লাস মনিটরের দায়িত্বে থাকা এক পড়ুয়া ওই শিশুকে বারবার মারধর করেছে বলে অভিযোগ। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধরা পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাড়ি ফিরে শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে স্কুল কর্তৃপক্ষ (School Authorities)। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত ক্লাস মনিটরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষিকা ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সব পড়ুয়াকে শান্তভাবে বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে থাকতে বলেন। পাশাপাশি ক্লাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয় মনিটরকে। অভিযোগ, সেই দায়িত্বের অপব্যবহার করে কয়েকজন সহপাঠীকে শাসন করার নামে মারধর শুরু করে সে। একসময় পাঁচ বছরের ওই পড়ুয়া সামান্য মাথা তুলতেই তার উপর চড়াও হয় মনিটর। শিশুটিকে একাধিকবার চড় মারা হয় এবং জোর করে বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসিয়ে রাখারও চেষ্টা করা হয়।
মারধরের জেরে আতঙ্কিত হয়ে শিশুটি শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ, তাকে টেনে আবার ক্লাসের ভিতরে নিয়ে এসে ফের মারধর করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একসময় শ্রেণিকক্ষের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য দরজা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় শিশুটি। পরে তাকে আবার নিজের জায়গায় বসিয়ে মারধর করা হয়। পুরো ঘটনার সময় অন্য পড়ুয়ারা নিজেদের বেঞ্চেই চুপচাপ বসে ছিল।
কিছুক্ষণ পর শিক্ষিকা ক্লাসরুমে এলে তার সঙ্গে কী ঘটেছে তা জানায়। ওই শিক্ষাকাকে কথা বলতেও দেখা যায়। বাড়ি ফিরে শিশুর মুখে আঘাতের দাগ ও ফোলাভাব দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। এরপর তারা স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন। ফুটেজে ঘটনার সত্যতা ধরা পড়তেই স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে এবং অভিযুক্ত ক্লাস মনিটরকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
















