ভয়াবহ দুর্ঘটনা বহরমপুরে। পুলকারে ধাক্কা ট্রেনের। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫। আহত হয়েছেন আরও চারজন। মৃতদের মধ্যে ২ জন পড়ুয়া একজন সাইকেল আরোহী। আহতদের মুর্শিদাবাদের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Murshidabad Medical College Hospital) ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় গেটম্যানকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং  সাসপেন্ড করা হয়েছে ২ জনকে।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণ ও গোবিন্দপুর স্টেশনের মাঝে ২৪এ/২ নম্বর রেলগেট। রেল লাইন পার হওয়ার সময় একটি স্কুলগাড়ি ও এক সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিল দ্রুত গতিতে আসা নিমতিতা কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন।  শুক্রবার সকালে ৭ টা নাগাদ একটি ট্রেন পাস করে। তার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল রেল গেট। ট্রেনটি যাওয়ার পর গেট খুলতেই স্বাভাবিকভাবেই আটকে থাকা গাড়ি রেল লাইন পার করতে শুরু করে।

লেবেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যায়। জানা গেছে কর্ণসুবর্ণ থেকে বহরমপুরের দিকে একটি এক্সপ্রেস ট্রেন চলে যাওয়ার পর লেভেল ক্রসিং তুলে দেওয়া হয়, সেই সময় স্কুল পড়ুয়াদের  নিয়ে টাটা সুমো পার হচ্ছিল, হঠাৎ করেই কাটোয়ার দিকে যাওয়ার জন্য একটি ট্রেন চলে এসে ওই টাটা সুমো থেকে ধাক্কা মারে। স্কুল পড়ুয়াদের ওই টাটা সুমো দুমড়ে মুছড়ে যায়, ওই দুর্ঘটনার ফলে তিনজন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। একটি বেসরকারি স্কুলের ওই ছাত্রছাত্রী। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

ঘটনায় গেটম্যান অনুপ কর্মকারের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে আরও এক গেটম্যান ও সুপারভাইজারকে। দুর্ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে এডিআরএম। ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের জন্য হাওড়া থেকে টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে রেল।

দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারও মৃতদের পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে।