ধর্ষক-খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সকালে জমা-বিকেলে খরচ। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কথা রাখলেন তিনি। বারুইপুর ধর্ষণ-খুনের তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের (Police) রিভলবার ছিনিয়ে পালাতে গিয়ে এনকাউন্টের (Baruipur Encounter) মৃত্যু হয়েছে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। আর পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন আমজনতা থেকে মৃত নাবালিকার বাবা-মাও। পুলিশের এই কড়া শাসনই এতদিন দেখতে চেয়েছিলেন বাংলার মানুষ রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পুলিশকে কাজ করতে দিচ্ছেন বলেই অন্যায়ের ফল ভুগতে হচ্ছে দোষীদের।

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের পর দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার, সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পরিবার যে ভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন।“ বারুইপুর কাণ্ডে এই প্রভাস মণ্ডলকেই (Pravas Mandol) প্রথম গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনিই দেখিয়ে দেন নাবালিকার দেহ পুকুরে কোথায় ফেলে হয়েছিল। প্রভাসকে জেরা করতেই বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার জন্য রাত পৌনে ১টা নাগাদ প্রভাসকে নিয়ে সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। অভিযোগ, সেই সময় অভিযুক্ত পুলিশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রভাস। তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করায় পুলিশের দিকে এক রাউন্ড গুলিও চালান তিনি। পাল্টা গুলিতে জখম হন প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এনকাউন্টার- বাংলায় ইদানীং কালে খুব কম হলেও, আইনে কিন্তু এর উল্লেখ আছে। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু বলেছিলেন, ”আমরা মনে করি, দোষীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য যোগী আদিত্যনাথের মতো এনকাউন্টার (Encounter) করে দেওয়া উচিত। এদের সমাজে থাকাই উচিত নয়। এরা সব ঘৃণিত জীব, পাষণ্ড।”

এর পরেই শুভেন্দু সাফ জানিয়েছিলেন রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের আর আদালতে বিচারের জন্য পাঠাবে না। "সকালে জমা নেব এবং বিকেলবেলা খরচ করে দেব"। মুখ্যমন্ত্রী কড়া মনোভাবকে সমর্থন জানিয়েছে আমজনতার। স্বস্তি পেয়েছে নিহতদের পরিবারও। এমনকী, খোদ প্রভাস মণ্ডলের মা-স্ত্রীর মত, “দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে।“ স্ত্রীর মতে, “ও বরাবরই নোংরা। তাই ও একাজ করেনি এমন দাবি করতে পারব না। ও করতেই পারে। দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে।” সকলের কথায়, “যে ভয়ংকর অন্যায় প্রভাস করেছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত। যা হয়েছে ভালো হয়েছে।”

নাবালিকার বাবা বলেন, “পুলিশের উপর ভরসা আছে। সরকারের উপর আস্থা আছে, সম্পূর্ণ ভরসা আছে।  সিএম কাল কথা দিয়েছেন যেভাবে, যেভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, খুব খুশি, অত্যন্ত খুশি। সিএম-এর উপর পুরো ভরসা আছে আমাদের। পুলিশের উপর পুরো ভরসা আছে। পুলিশ না থাকলে আমরা এত এগোতে পারতাম না কোনওদিন। তদন্তে খুশি। আরও যারা আছে ধরা পড়বে। অপরাধীরা শাস্তি পাক, সেটাই চাই। দাদার উপর আমাদের পুরো ভরসা আছে। আমাদের যিনি মুখ্যমন্ত্রী আছেন, তাঁকে আমরা দাদাই বলি। তাঁর উপর পুরো ভরসা আছে।  আমি কঠোর ভাবে সাজা চেয়েছি। দাদা বলল, তুমি শুধু আমার কাজ দেখে নাও । সত্যি দাদার উপর আমার ভরসা আছে খুব।“ 

রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে এনকাউন্টারের ঘটনাকে জোরালো সমর্থন কামদুনি আন্দোলনের (Kamduni) অন্যতম প্রধান ২ প্রতিবাদী- টুম্পা কয়াল (Tumpa Koyal) ও মৌসুমি কয়াল (Mousumi Koyal)। তাঁর অভিযোগ, “আমরা বিচার পাইনি। বাংলার সব ধর্ষকদের এভাবেই এনকাউন্টার করা উচিত।” টুম্পা-মৌসুমীর কথায়, ”এই ধর্ষকদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। এভাবেই বাংলার প্রতিটা ধর্ষককে খতম করা উচিত, তবেই নারীদের ওপর নির্যাতন কমবে।”

অর্থাৎ স্যোশাল মিডিয়ায় কেউ কেউ এই এনকাউন্টারের বিরোধিতায় জনমত গঠনের চেষ্টা করেলও, Ground level reality বলছে, নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ ও জীবন্ত অবস্থায় পুকুরে ফেলে খুনের অভিযুক্ত এই পরিণতিতে আমজনতা স্বস্তিতে। দোষ করলে যে পার পাওয়া যাবে না- পুলিশের এই পদক্ষেপ সেটাই স্পষ্ট করে দিল মত বেশিরভাগের।