Site Logo

অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা তৈরিতে সরাসরি ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার!

EBBS DESK·
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা তৈরিতে সরাসরি ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার!

অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Bhandar) উপভোক্তা তালিকা তৈরিতে এবার সরাসরি ব্যবহার করা হচ্ছে ভোটার তালিকা সংশোধনের তথ্যভাণ্ডার। আর সেই প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে কাজে লাগানো হতে পারে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO)। রাজ্যের মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি হওয়া  নির্দেশিকাকে (Order) ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক।

Sponsored

Sranchi In Article

গত ১৯ মে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে হওয়া উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakhsmi Bhandar) প্রকল্পের বর্তমান উপভোক্তাদের তথ্যভাণ্ডারকে ভিত্তি করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের কাজ এগোবে। তার আগে বড় পরিসরে তথ্য যাচাই ও পরিশোধনের অভিযান চালানো হবে। অযোগ্য, মৃত, ডুপ্লিকেট, স্থানান্তরিত বা অন্য কোনও ভাবে অযোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

নথিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন তৈরি হওয়া বিভিন্ন তথ্যভাণ্ডার এই যাচাইয়ে ব্যবহার করা হবে। তার মধ্যে রয়েছে খসড়া তালিকায় উঠে আসা প্রায় ৫৮ লক্ষ এএসডিডি তথ্য, শুনানির পরে বাতিল হওয়া প্রায় ৬ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ মামলার তথ্য এবং ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বা ভিআইএস বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য। প্রশাসনের বক্তব্য, এই তথ্যভান্ডার ব্যবহার করে উপভোক্তাদের তথ্য ক্রস-ভেরিফিকেশন করা হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী ব্লক উন্নয়ন দফতরের কর্মী এবং অন্যান্য ক্ষেত্রস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিএলওদের এই কাজে সার্বিকভাবে নিযুক্ত করা যেতে পারে। এরপরই উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর থেকে পৃথক নির্দেশিকা জারি করে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিএলওদের সক্রিয়ভাবে উপভোক্তা যাচাইয়ের কাজে নামানো হয়।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় মৃত, অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাতে হবে। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকার ভিত্তিতে যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর কথাও বলা হয়েছে। পরে যাঁদের নাম দ্বিতীয় তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে বা ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বাতিল হয়েছে, তাঁদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। এমনকী ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ বিলির সময় পাওয়া তথ্যও এই যাচাইয়ে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কর্মী, নির্বাহী সহায়ক, সহায়ক, ভিএলই, জিআরএসদের পাশাপাশি বিএলওদেরও প্রতিদিন রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ভোটার তথ্য মিলিয়ে দেখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কোনও ভুল বা অসঙ্গতি ধরা পড়লে সংশোধনের রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।

মুখ্যসচিবের দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, নারী ও শিশুকল্যাণ এবং সমাজকল্যাণ দফতর একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল তৈরি করবে, যেখানে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই, সংশোধন এবং তথ্যভাণ্ডার পরিশোধনের কাজ চলবে। প্রতিদিন জেলার অগ্রগতি রিপোর্ট মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়া ২৫ মে-র মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে, কারণ ১ জুন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে ব্যবহৃত তথ্যভান্ডার এবং বিএলওদের সামাজিক প্রকল্পের উপভোক্তা যাচাইয়ে ব্যবহার করা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলছে। অন্নপূর্ণ  যোজনাতে BLO দের কাজ করার প্রসঙ্গে ভোট কর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, সেই নভেম্বর মাস থেকে বিএলও-রা এসআইআর-এর কাজ করে গিয়েছেন। তারপর নির্বাচনেরও কাজ করেছেন। এবার তাঁদের রিলিজ হওয়ার কথা, তা না করে আবার নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন কাজ চাপিয়ে দেওয়া হল। বিএলও-রা তাঁদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানই ভুলতে বসেছেন। তিনি  অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন।

-

-

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →