রাজারহাটের দক্ষিণ নারায়ণপুরের (South Narayanpur, Rajarhat) সুপারি বাগান এলাকায় শুক্রবার রাতে একটি ভাড়া বাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণের (Explosion) ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পর প্রথম এলাকায় পৌঁছায় পুলিশ, পরে তদন্তের স্বার্থে পোঁছায় বম্ব স্কোয়াড (Bomb Squad) এবং দায়িত্ব পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) আধিকারিকরা। বিস্ফোরণের সময় ঘরের বাইরে কেউ ছিলেন না বলে জানা গেলেও, ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন। কীভাবে ওই বাড়িতে বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় নাশকতার ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কয়েক দিন আগে কামারহাটির বাসিন্দা সেলিম (Selim, a resident of Kamarhati) ওরফে শামীম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি ভাড়া নেন। বাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেন স্থানীয় দালাল শাহেনশা (Shahenshah)। অভিযোগ, ঘটনার দিন একটি ব্যাগ ওই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজে (CCTV Footage) কয়েকজনকে সেই ব্যাগ নিয়ে ঘরে ঢুকতে দেখা গিয়েছে। কিছুক্ষণ পরেই প্রবল বিস্ফোরণে বাড়ির দরজা, দেওয়াল এবং একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।
নারায়ণপুর ও রাজারহাট থানার পুলিশ (Police from Narayanpur and Rajarhat police stations) যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী এবং স্থানীয়দের বয়ানের ভিত্তিতে সেলিম ওরফে শামীম, শাহেনশাসহ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে। তদন্তকারীরা বাড়ি ভাড়া নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া এবং বিস্ফোরকের উৎসও খতিয়ে দেখছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সুতলি বোমা বিস্ফোরণের জেরেই বাড়ির দুটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা আরও বেশি হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
















