তারাতলার (Taratala) বহুতল ধসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে সাহায্যের চেক তুলে দিয়ে তিনি বলেন, অর্থ দিয়ে প্রাণহানির ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব নয়, তবে সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) জানান, দুর্ঘটনার পরপরই সেনা, এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF), দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে দিন-রাত উদ্ধারকাজ চালানো হয়। ঘটনায় মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৭ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) এবং পাঁচ জন বিহারের বাসিন্দা। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মাফিক মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাইটস, আইআইটি (IIT) খড়্গপুর, পুলিশ এবং পূর্ত দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দেওয়ানি ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ জুলাই পর্যন্ত অনুমোদনহীন বা নিরাপত্তাহীন নির্মীয়মাণ ভবনগুলির বিশেষ পর্যালোচনার নির্দেশও দিয়েছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আজ কোনও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়। আমরা আপনাদের পাশে আছি, সহমর্মিতা জানাতেই এসেছি।" শুভেন্দুর কথায়, "কোনও মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ অর্থ দিয়ে হয় না। আমাদের প্রথম লক্ষ্য, অতীতে সরকার বা কর্পোরেশনের ভুলত্রুটির কারণে কলকাতায় বারবার যে ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখান থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া।"

পোস্তা, মাঝেরহাট, গার্ডেনরিচ, বড়বাজারের অগ্নিকাণ্ড ও তিলজলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে উদ্ধারকাজে বহু ঘাটতি ছিল। তারাতলার ঘটনায় স্থানীয় মানুষ, কলকাতা পুলিশ, পুরসভা ও দমকল ৩০ মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং দু'ঘণ্টার মধ্যে সেনা, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফকে যুক্ত করা হয়। শুভেন্দু জানান, "আমরা ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি, কিন্তু ১৬ জনকে বাঁচাতে পারিনি। সেই বেদনা আমাদের রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য"।

অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্যও শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহত শ্রমিক পাপ্পু রজকের স্ত্রী শিউলি রজক স্বামীর মৃত্যুর পরে সংসার চালানোর জন্য একটি চাকরির আবেদন জানান। আহত শ্রমিক ইমরান খান চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

জবাবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, শ্রম দফতরের সেস তহবিল থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নিহতদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা, হস্টেলে থাকার ব্যবস্থা এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দায়িত্বও সরকার নেবে। কলকাতা পুলিশকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

শেষে মুখ্যমন্ত্রী নিজে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।