বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনে জঘন্যতম অপরাধে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার, সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “পরিবার যে ভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন।“ একই সঙ্গে যেভাবে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে হয়ে উঠেছিল, তার পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার, বারুইপুর যাবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। 

বারুইপুরে নাবালিকা খুন ও ধর্ষণের ঘটনাকে ‘জঘন্যতম অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়ে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা (Capital Punishment) হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিবার যে ভাবে বিচার চেয়েছেন, সেটা তাঁরা পাবেন।“ মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ওর বাবা যা যা চেয়েছে সব করবে মুখ্যমন্ত্রী... আমি খুশি ওঁরা আস্থা রেখেছেন।“

একই সঙ্গে বারুইপুরের (Baruipur) ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে হয়ে উঠেছিল, এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যেভাবে রেললাইন তুলে ফেলা হয়েছে, তা অতীত মনে করাচ্ছে। ২০১৯ সালে সিএএ (CAA) বিরোধী আন্দোলন বা ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনের সময় এই সব দেখা গিয়েছিল। এদিকেও প্রশাসন নজর রাখছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বারুইপুরে গণপিটুনির পিছনে সাম্প্রদায়িকতার উস্কানি রয়েছে। সিআরপিএফ-এর ২ জন জওয়ান আহত, পুলিশের গাড়ি জ্বালানো হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন প্রথমটার বিচার দেব, ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব। বাকি ৩টে বিষয় যারা যুক্ত... বাকি ৩টে কাণ্ড যারা করেছে, তাদের ভুগতে হবে। এমন ভোগাবো বুঝতে পারবে।“

সিট (SIT)গঠন করে আইজির নেতৃত্বে বারুইপুরের ঘটনায় তদন্ত হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে পরিবার। তাদের মধ্যে ২ জন গ্রেফতার হয়েছে। ৩ জন আটক হয়েছে, তারা পলাতকদের সঙ্গে কথা বলেছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। মুখ্যমন্ত্রী এই কথা জানানোর কিছুক্ষণর মধ্যেই মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

মঙ্গলবার, বারুইপুর যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুলিশ (Police) সুপারের অফিসে যাবেন। ঘটনায় কোনও পুলিশ কর্মীর গাফিলতি থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসপি অফিসেই মৃতার পরিবারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেখা করার কথা।