নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য। ইতিমধ্যে ছাত্রদের প্রবল বিক্ষোভে চাপের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তিন অভিযুক্ত কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দীপ্তাংশু মাহাতোর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতে বাকি আবাসিক পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বুধবার স্কুলে ছাত্র ও অভিভাবকদের আলোচনায় ডাকা হয়। সেখানে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেয় পড়ুয়ারা। তাদের শান্ত করতে মঞ্চ থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ জানান, ওই দুই হাউস মাস্টারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। চলতে থাকে ছাত্রদের প্রতিবাদ। সমাজ মাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। স্কুলের গাফিলতি নিয়ে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। পরে চাপের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন স্বামী ইশতেশানন্দ।
মধ্যমগ্রাম বঙ্কিমপল্লির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি দীপ্তাংশুর মাহাতোর। বাবা মনোরঞ্জন মাহাতো পেশায় আইনজীবী। হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করেন। মা তিন বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। ছেলের নিথর দেহ ময়নাতদন্তের পর বাড়ি নিয়ে আসার জন্য কলকাতায় রয়েছেন বাবা। বাড়িতে আছেন দীপ্তাংশুর দিদি মঞ্জিমা। মঞ্জিমা জানায়, ফ্লাক্সে থাকা চা খেতে গিয়ে ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাড়ির লোকজনের জন্য অপেক্ষা করেন মিশন কর্তৃপক্ষ। দিদির অভিযোগ, ‘মিশন কর্তৃপক্ষ একবারের জন্য ভাই দ্রুত চিকিৎসার উদ্যোগ নেয়নি।’ দীপ্তাংশুর দিদা প্রতিমা সর্দার জানান, বাবা গেলে তাঁর মোবাইল থেকে বিশ্বকাপের খেলাও দেখেছিল কিছুক্ষণ। তার পরেই ফের অসুস্থবোধ করে এবং বাবার কাঁধে মাথা রেখেই চোখ বন্ধ করে চিরকালের জন্য।
দুই ভাইবোনই মধ্যমগ্রাম নবনালন্দা শিশু বিদ্যাপীঠ-এ লেখাপড়া করে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত। দিদির গ্রাজুয়েশন শেষ হয়। ভাই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে আগামী বছর উচ্চমাধ্যমিক দেবে, এমনই কথা ছিল। মঞ্জিমা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডা লাগায় ভাই অসুস্থ ছিল। আগামী ৩ জুলাই বাড়িতে আসার কথা ছিল। কিন্তু তা আর হল না। পরিবারের দাবি, দীপ্তাংশুর এই ভাবে মৃত্যু অস্বাভাবিক। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত নেমেছে।
৩০ জুন দীপ্তাংশু মাহাতো নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে ক্লাস চলাকালীন ফ্লাক্স থেকে গরম চা সরাসরি খেয়ে ফেলায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। যত সময় যায় তত শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। একটা সময় মিশনের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ডাক্তাররা বলেন তার মুখ থেকে গলার ভিতরের অংশ পুড়ে গিয়েছে যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হোক। তারপরেও মিশনের গাফিলতিতে তাকে দীর্ঘক্ষন বিনা চিকিৎসায় বসিয়ে রাখা হয়। তারপর একটা সময় যখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তখনই মৃত্যু হয় তার।
















