Site Logo

পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভাঙা যাবে না আমতলার কার্যালয়: স্থিতাবস্থা বজায়ের নির্দেশ হাই কোর্টের

EBBS DESK··1 min read
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভাঙা যাবে না আমতলার কার্যালয়: স্থিতাবস্থা বজায়ের নির্দেশ হাই কোর্টের

মামলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। নতুন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না। আমতলায় তৃণমূল (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কার্যালয় ভাঙার প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও রবিবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানির আবেদন জানানো হয়। অভিষেকের আইনজীবী বিষয়টি বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর (Raja Basu Chowdhury) নজরে আনেন। ছুটির দিনেই মামলার শুনানির ব্যবস্থা করা হয়- যা বিরল ঘটনা। সেই মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমতলার ওই ভবন ভাঙা যাবে না। স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ এখন যে অবস্থায় রয়েছে, সেটি ওই অবস্থাতেই থাকবে।

Sponsored

Sranchi In Article

আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে শনিবার থেকে বুলডোজার নিয়ে এসে ভাঙার কাজ শুরু করে প্রশাসন। ওই ভবনের জমি কেনা হয়েছিল লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার নামে। ভবনের অংশ ভাঙার পরে সেই সংস্থার আইনজীবীর তরফে হাই কোর্টের বিচারপতিকে ইমেল করে জরুরি শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক অতীতের মধ্যে বিরল ঘটনা হিসেবে রবিবারই বিচারপতি বসু চৌধুরীর এজলাসে শুনানি হয়।

Sponsored

Merlin In Article

সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা পরিষদ ভাঙার কাজ শুরু করে। লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে জানান, শনিবার থেকে ভাঙচুরের কাজ চলছে। পঞ্চায়েত আইন মেনে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ভবনের মালিককে শুনানির জন্য কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। কিশোর দত্ত আরও জানান, ১৫ জুলাই শুনানির দিন ধার্য ছিল। গত ৮ জুলাই শুনানির জন্য নোটিশ পৌঁছোয়। মাত্র সাত দিনের সময় দেওয়া ছিল। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত আইন দেখুন। স্ট্যাটুয়েটারি স্কিম অনুযায়ী মালিককে আগে নোটিশ দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে মালিকের পরিবর্তে ডিরেক্টরকে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও শুনানি হয়নি। এমনকী কী কী অভিযোগ ছিল- তার প্রতিলিপিও দেওয়া হয়নি। ভাঙার নির্দেশের কপিও দেওয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আমি জানিই না। তার ভিত্তিতে বক্তব্য রাখারও সুযোগ দেওয়া হয়নি। 

Sponsored

Shyam Sundar In Article

বিচারপতি অর্ডার দেখতে চান। পাল্টা কিশোর দত্ত বলেন, আমাকে তো দেওয়াই হয়নি। এই ভাঙার কাজ পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে করা হচ্ছে। 

Sponsored

Camelia In Article

তাঁর কথায়, ‘‘কোনও নির্মাণ বেআইনি হলে প্রথমে আমাকে ভাঙার সুযোগ দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয়নি। আইনে উল্লিখিত কোনও কিছু মানা হয়নি। সাধারণ মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে।’’

Sponsored

Techno India In Article

রাজ্যের এডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র বলেন, ৩০ জুন নোটিশ পেয়েছে। কী কী প্রভিশন আছে তা জানানো হয়েছে। এরা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকে না যে নোটিশে কি আছে জানে না। বিচারপতি বলেন, "আমার কাছে নেই কী প্রভিশন দেওয়া হয়েছিল। আপনারা অর্ডারটা কবে দেখাবেন?আমি এটি রেগুলার বেঞ্চে পাঠাচ্ছি ততদিন ভাঙা বন্ধ রাখুন।"

Sponsored

Probe In Article

ফের এডভোকেট জেনারেল জানান, ১৬০(এ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ৩ দিন পর উত্তর দেওয়া হয়। ডিরেক্টর কেন উত্তর দিলেন না? আমতলা প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা নয়। বিচারপতি বলেন: আপনি তাহলে সম্পূর্ণ রেকর্ড আনুন।  

কিশোর দত্ত প্রশ্ন তোলেন, ইন্সপেকশন কখন হল, কবে হলো, আমার উপস্থিতি ছিল কি না কিছু উল্লেখ নেই। এসডিওকে ভাঙতে বলা হয়। এই ক্ষমতা এঁদের আছে? শুনানিতে একবারও বলা হয়নি আমি কখনও তাঁদের সন্তুষ্ট করতে পারিনি। 

সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, ইডি ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। বিচারপতি বসু চৌধুরী বলেন, আমি এই বিষয়ে ঢুকতে চাই না। সব রেকর্ড নেই এখানে।

এরপর বিচারপতি নির্দেশ দেন মামলায় যতক্ষণ না আবার পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে ততক্ষন স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। নতুন কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।  

এই মামলার তৃণমূলের আবেদন ছিল, ওই ভবন থেকে কিছু জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তারা সেখানে লুঠপাট চালিয়েছে। যে সব জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলি ফেরত দিক পুলিশ। আদালত ওই আবেদন নাকচ করে দেয়। বিচারপতি জানান, আপাতত পুলিশের আগের পদক্ষেপে কোনও হস্তক্ষেপ নয়।

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →