বহু বছর পরে তৃণমূলের (TMC) ২১ জুলাই পালনের স্থান বদল। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে মমতাপন্থী তৃণমূলকে শহিদ দিবস পালনে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya) একাধিক শর্ত দেন। 

বিচারপতির শর্ত অনুযায়ী,
আড়াই হাজার বেশি মানুষের জমায়েত নয় 
দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ৩ টে পর্যন্ত সময়
একধারে সমাবেশ হবে, অন্য ধারে গাড়ি চলাচল করবে 
ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে 
আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় তা দেখবে পুলিশ

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ দেন, ১৮ জুলাই ৪টের মধ্যে আয়োজকদের নাম ও মোবাইল নম্বর জয়েন্ট সিপি হেডকোয়ার্টারকে জানাতে হবে। ১৬৩ ধারা জারি নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না আদালত।

২০১৯ সালে একটি মামলায় আদালত স্পষ্ট রায় দেয়, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে রাস্তা বন্ধ করে এই সভা করা যাবে না। এবারও ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানায় মমতাপন্থী তৃণমূল। বুধবার, সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেন, “অন্যান্যবার আপনাদের এই সভার জন্য খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের। নগরজীবন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। হাইকোর্ট যাতায়াত অসুবিধা হয়েছে।”

এদিন আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, পুলিশ ব্রিগেডে সভার অনুমতি দিতে রাজি। তাঁর কথায়, শহিদ মিনারে কংগ্রেস ও গান্ধী মূর্তির সামনে তৃণমূলের একাংশ ইতিমধ্যেই অনুমতি পেয়েছে। সেই কারণে ধর্মতলায় আরও একটি সভা হলে সমস্যা তৈরি হবে। বিভিন্ন সভাস্থলের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, শহিদ মিনার ও গান্ধী মূর্তির সামনে সভার অনুমতি দেওয়া যায়, তাহলে ধর্মতলার অন্য অংশে নয় কেন? এরপর আদালতে ডোরিনা ক্রসিং, মেট্রো চ্যানেল এবং বিরলা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সভা করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়ে রাজ্যকে অবস্থান জানিয়ে আসতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

বিরতির পরে রাজ্য জানায়, ওয়েলিংটনের সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে সভা হলে ভালো হয়। এখানে দু’জাহার সমর্থককে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। দশ হাজারের বেশি হলে ব্রিগ্রেডে যেতে হবে। কারণ বিড়লার কাছে হাসপাতাল ও স্কুল আছে। 

শহিদ মিনারে প্রদেশ কংগ্রেসের সভায় অন্তত ১০ হাজার লোক হবে আর ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সভায় ৭০০-৮০০ লোক হবে বলে জানানো হয়েছে পুলিশকে। মমতাপন্থী তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২৭ জুনে আমরা ভেন্যু চেয়েছি। পাইনি। আমাদের পরে যারা চেয়েছে তাদের শহিদ মিনার দিয়েছে।” আদালত জানায়, বিড়লা তারামণ্ডলের উল্টো দিকে যদি একটা ফ্ল্যাঙ্ক বন্ধ থাকে সেখানে ১০ হাজার লোক ধরে যাবে। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”দয়া করে ৫ হাজার লোক থাকার অনুমতি দেওয়া হোক।” পাল্টা বিচারপতি বলেন, ”আড়াই হাজার লোক নিয়ে ওই জায়গায় করলে অনুমতি দেওয়া যাবে। আপনাদের আবেগকে সন্মান জানিয়ে এই সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি মাথায় রাখুন। আপনার এতদিন এই অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে করেছেন। এখনকার পরিস্থিতি ভাবুন।”