মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশনে হকার উচ্ছেদের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চ কেবল নির্দিষ্ট কিছু মামলাকারীর জন্যই এই স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। তবে এবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত মধ্যমগ্রাম স্টেশনের সমস্ত হকারের জন্যই এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে কোনও উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারবে না।
আদালতে রেলের পক্ষে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল (ডিএসজি) ধীরজ ত্রিবেদী সওয়াল করেন, "রেল লাইনের ধার থেকে হকার উচ্ছেদ করতে কোনও আগাম নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।" রেলের আইনজীবীর এই যুক্তির জবাবে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, "প্রয়োজন না থাকলেও আপনারা তো নোটিশ দিয়েছেন। কোন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সেটা আগে স্পষ্ট করুন। তা না হলে এই নোটিশ খারিজ করে দেওয়া হবে।" বিচারপতি আরও জানতে চান, কারা লাইসেন্সি, কারা নয়, কারা কাঁচা কাঠামো,কারা পাকাপাকি কাঠামো ইত্যাদি ভাগগুলি কি আলাদা করেছেন?
জবাবে রেলের আইনজীবী জানান, যে ১৩ জন হকার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে স্টেশনের সমস্ত হকারকে এই স্থগিতাদেশের আওতায় আনতে হবে, যা বাস্তবে অসম্ভব। রেলের এই আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ, "আপনারা যদি আলাদা আলাদা করে প্রত্যেক হকারকে নোটিশ না দিয়ে ঢালাও নোটিশ দেন, তবে হকাররাও একইভাবে একসঙ্গে এই স্থগিতাদেশের সুবিধা পাবেন—এটা বলাই যায়।"
হকারদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আদালতে সওয়াল করে বলেন, "হকাররা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণী বা ‘ক্লাস’। জমির ওপর হয়তো তাঁদের আইনি অধিকার থাকে না, কিন্তু রুটি-রুজির তাগিদে ব্যবসা করার অধিকার তাঁদের অবশ্যই রয়েছে।"আপাতত হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে মধ্যমগ্রাম রেল স্টেশনের কয়েকশো হকার উচ্ছেদের আতঙ্ক থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন। আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দু-পক্ষ।
















