৪ মে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য ডিম (Egg) ছোড়া যেন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার ডিম ছোড়া নিয়ে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। ডিম ছুড়ে হেনস্থার ঘটনায় এফআইআর করার নির্দেশ দিল আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি দু'সপ্তাহ পরে হবে বলে জানিয়েছে আদালত।
দলের নেতা-কর্মীদের উপর ডিম ছোড়া থামাতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল তৃণমূল (TMC)। মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এই মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন। তা খারিজ করা হয়েছে। বিচারপতি চক্রবর্তী রাজ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, "ডিম ছোড়ার ঘটনা রুখতে কী পদক্ষেপ করেছেন? এক-দু'জনকে গ্রেফতার করে কী হবে? সামজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।" বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, "সকলের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।" রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার (Rajdeep Majumder) বলেন, "আমরা বলেছি যে, নিজেদের হাতে কেউ আইন তুলে নেবেন না। কিন্তু কোনও অভিযোগ না-পেলে আমরা কী ভাবে পদক্ষেপ করব?"
ডিম ছোড়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি মামলা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য ২০ জুলাই হলফনামা দিয়ে রাজ্যকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটাও জানাতে হবে। তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ পাল্টা সওয়ালে বলেন, "ডিম ছোড়া পুলিশ নিজেরাই করছে। তা হলে জনগণ আর কী করবে? আজই অন্তর্বতী নির্দেশ দেওয়া হোক। বিমানবন্দরের মতো জায়গাতেও এই ধরনের আক্রমণ হচ্ছে। মন্ত্রী বলছেন ডিম ছুড়তে। সরকার কী পদক্ষেপ করেছে?" অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়ার আর্জির প্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, রাজ্য বিষয়টির কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে সবিস্তার রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত।
গত ২২ জুন দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় দলের দুই বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), মদন মিত্র এবং তিন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের তরফে অভিযোগ করা হয় যে, দলীয় কর্মীদের আক্রমণ করা হচ্ছে, দলীয় কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী তথা কল্যাণের পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কাউন্সিলর গ্রেফতারের ঘটনা বা থানা থেকে কোর্টে কিংবা কোর্ট থেকে তাদের বের করে গাড়িতে তোলার সময় ডিম ছোড়া। এছাড়াও বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের মুখে তৃণমূল নেতাদের ডিম ছোড়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার এর বিরুদ্ধে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
















