অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ মামলায় হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। কোনও রক্ষাকবচ দিলেন না বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। পাশাপাশি, এই সংক্রান্ত এফআইআর খারিজের মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে বিচারাধীন থাকায় মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। 

ডি জে বাজানোর নিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার মামলা হয়। সেখানেই তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চায় সিআইডি (CID)। কিন্তু তার বিরোধিতা করে আদালতের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, আমি তো স্বীকার করছি যে কণ্ঠস্বর আমার। তাহলে নমুন সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কী! এই নিয়ে মঙ্গলবার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Tirthankar Ghosh) প্রশ্ন, “কেউ যদি খুন করে থানায় গিয়ে স্বীকার করে যে আমি খুন করেছি তাহলে কি পুলিশ আইন মেনে তদন্ত করবে না?“ 

অভিষেকের উদ্দেশ্যে বিচারপতি বলেন, “যদি কণ্ঠস্বর আপনার হয় তাহলে পুলিশের কাছে গিয়ে আবার কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে অসুবিধা কোথায়! এই মামলা ইতিমধ্যে অন্য এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। সেখানে গিয়ে  যা বলার বলুন“। অভিষেক বিচারপতি বলেন, “আদালত আপনাকে এই শর্তে রক্ষাকবচ দিয়েছিল যে আপনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। এখন কণ্ঠস্বর না দিলে তো পুলিশ অসহযোগিতার অভিযোগ করবে।“ বিচারপতি ঘোষ জানান, তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে তাদের তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করবে সেটা তাদের ব্যাপার। আদালত কেন হস্তক্ষেপ করবে? বিচারপতির কথায়, “তদন্তে কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা নয়, সেটা তদন্তকারী সংস্থাকে বলে দিতে পারে না আদালত।“

 

একই সঙ্গে মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। এই সংক্রান্ত এফআইআর খারিজের মামলা বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর এজলাসে বিচারাধীন থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এবার মামলা প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত যাবে। ফলে এদিনের শুনানিতে কোনও পক্ষ থেকেই কোনও স্বস্তি পেলেন না অভিষেক।