বাঙালি আর ইলিশের প্রেম চিরন্তন। কিন্তু পকেটের জোর আর বর্ষার মরশুম—এই দুইয়ের মেলবন্ধন না ঘটলে বাঙালির পাতে পদ্মা বা গঙ্গার ইলিশ ওঠা আজকাল ভাগ্যের ব্যাপার। বছরের অন্য সময়ে ভালো ইলিশ পাওয়া তো রীতিমতো খড়ের গাদায় ছুঁচ খোঁজার সামিল। কিন্তু কেমন হয়, যদি চৈত্র সেল কিংবা কার্তিকের দুপুরেও বাজারে গিয়ে জ্যান্ত ইলিশের দরদাম করা যায়? হ্যাঁ, ভোজনরসিক বাঙালির সেই স্বপ্নকেই এবার বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন এ রাজ্যের মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

নদী বা সমুদ্রের মোহনা ছেড়ে এবার পুকুরেই সাঁতার কাটবে ইলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের 'কেন্দ্রীয় নোনা জলজীব পালন অনুসন্ধান সংস্থা' (ICAR-CIBA)-র বিজ্ঞানীরা ইলিশ চাষের গবেষণায় এক ঐতিহাসিক সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মোট ছয়টি ধাপের এই মহা-গবেষণার প্রথম পাঁচটি পর্বেই কেল্লাফতে করেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার শেষ তথা ষষ্ঠ পর্বের বাধা পার হলেই ইতিহাস ছোঁয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা!

নদীর খরস্রোতে চড়ে বেড়ানো ইলিশকে পুকুরের বদ্ধ জলে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেই সহজ ছিল না। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা এই অসাধ্য সাধনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ যাবৎ দেশের প্রায় ৯৮২টি পুকুরে ইলিশ চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। তবে আটকে রয়েছে একটি জায়গায়—পুকুরের কৃত্রিম পরিবেশে ইলিশের ডিম থেকে পোনা (breeding) ফোটানো। এই শেষ বাধাটুকু পেরোতেই এবার ময়দানে নামানো হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।

শনিবার সুন্দরবনের কাকদ্বীপ গবেষণা কেন্দ্রে এর জন্য উদ্বোধন করা হলো এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্র 'স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটরি অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম' (RAS)। প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি এই সিস্টেমে কৃত্রিমভাবে সমুদ্র বা নদীর মোহনার মতো জলের লবণাক্ততা ও স্রোত তৈরি করা যাবে, যা ইলিশকে ডিম পাড়তে এবং সেই ডিম ফুটে পোনা বের হতে সাহায্য করবে। সূচনা করেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আইসিএআর-সিবার অধিকর্তা ডঃ কুলদীপ কে লাল এবং কাকদ্বীপ কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী ডঃ দেবাশীষ দে।