বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ক্রমশ যেন আতঙ্কের জায়গা হয়ে উঠছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। প্রায় প্রতিদিন বেছে বেছে বাঙালিদের হেনস্থা, নয় মারধরের ঘটনা সেখানে লেগেই রয়েছে। এত কিছুর পরেও একেবারে মুখে কুলুপ বিজেপির মোহন মাঝি (Mohan Majhi) সরকারের। তারই জেরে এবার হুগলির গোঘাটের (Goghat) এক পরিযায়ী শ্রমিককে (migrant labour) নিজের পেশা ছেড়ে বাংলায় ফিরে আসতে বাধ্য করল একদল উগ্র ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সমর্থক। মার খেয়ে কোনওক্রমে নিজের বাড়ি ফেরে ওই যুবক।
ভয়ে তালাবন্ধ হয়ে থাকতেন, তাতে রেহাই নেই: ওড়িশায় বাংলা বলায় মার খেয়ে ঘরে ফিরল রাজা
Sponsored

হুগলির গোঘাটের বিরামপুর গ্রামের প্রায় দেড়শো পরিবারের প্রত্যেক পরিবার থেকেই বাইরের রাজ্যে কাজে যান। প্রতি পরিবারেই পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। রাজা আলি নামে এক যুবকও আট মাস আগে ওড়িশায় (Odisha) পাথর ভাঙার কাজে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারপর থেকেই ওড়িশায় বাঙালি বিদ্বেষের ঘটনা শুরু হয়। একবার তার মুখে বাংলা কথা শুনে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভাব মেটাতে হুমকির মুখেও সে ওই রাজ্যেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশা করেছিল।
দুদিন আগে এক সন্ধ্যায় তার ঘরে তালা ভেঙে প্রায় ১০-১২ জন ঢুকে পড়ে। প্রথমে তার পরিচয় পত্র দেখতে চায়। রাজা নিজের পরিচয়পত্র দেখালেও মেলেই ছাড়। তাকে মারধর করে জোর করে জয় শ্রীরাম বলতে বাধ্য করে হামলাকারীরা। তার কাছে সেই সময়ে কাজ করে পাওয়া ৫০ হাজার টাকা ছিল। সেই টাকা ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় হামলাকারীরা।
ওই এলাকায় যে এভাবে শুধুমাত্র বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্য়াচারের ঘটনা ঘটে তা অন্যান্য এলাকার শ্রমিক থেকে বাড়ি ভাড়া যাঁরা দেন, সেই মালিকরাও জানেন। হামলাকারীরা রাজার উপরে চড়াও হতেই প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যায় তাঁর সঙ্গী অন্য় পরিযায়ী শ্রমিকরা (migrant labour)। এমনকি রাজা বাঙালি বলে সে ঘরে থাকলে তার ঘরে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখত বাড়ির মালিক। কিন্তু হামলার দিন সেই তালাও ভেঙে ঘরে ঢোকে হামলাকারীরা।
আরও পড়ুন : ফের শিরোনামে ডবল ইঞ্জিন ছত্রিশগড়! এবার পুলিশের জরুরি পরিষেবার গাড়িতে গণধর্ষণ যুবতীকে
গোঘাটের দরিদ্র পরিবারের যুবক রাজাকে আর ভিন রাজ্যে কাজে পাঠাতে নারাজ তার পরিবার। অথচ কাজ না করলে কীভাবে পরিবারের খরচের যোগান হবে, তা নিয়েই চিন্তায় রাজা। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান সে। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা রোজগার করতে পারেন না। সে একমাত্র রোজগেরে। ফলে বাঙালি হওয়ায় অত্যাচারের মুখে পড়ে কার্যত রোজগারের হারালো বাংলার এক পরিবার।
-
-
-
-
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













