সোমবারেই বিধানসভা থেকে হুমায়ুন কবীরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhukari)। তারপরেই অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ। মঙ্গলবারই দুই পৃথক মামলায় বিধায়কের (Humayun Kabir) বাড়িতে সমন নিয়ে হাজির হল রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ। তবে আপাতত বাড়িতে নেই বলে দাবি করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। 

শক্তিপুর থানার এফআইআরের অভিযোগ অনুযায়ী, ২৭ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ পুলিশের হাতে একটি ভিডিও আসে। যেখানে হুমায়ুন কবীর প্রশাসনের বিরুদ্ধে 'অপমানজনক, মানহানিকর, উস্কানিমূলক এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অবমাননাকর' মন্তব্য করেছেন। তদন্তে জানা যায়,  ৮ মে শক্তিপুর থানার গড়দুয়ারা ঘাটের কাছে বিজয় সমাবেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেইখানে এই রকম মন্তব্য করেন। পুলিশের দাবি, তাঁর এই ভাষণ জনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও নষ্ট করতে পারে। শক্তিপুর থানায় দায়ের হয় সুয়োমোটো মামলা। এর পরিপ্রেক্ষিতে হুমায়ুনকে শক্তিপুর থানায় ৩ জুলাই হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। 

অন্যদিকে ২৬ জুন রেজিনগরের এক সভায় হুমায়ুন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, " বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। মুর্শিদাবাদে হেরেও দু, একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। কিন্তু আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না,আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।" তিনি আরও বলেন, "ভোটের আগেরদিন আমার ভাইপোকে গ্রেফতার করেছেন ওসি। তাঁকে আগে দেখব। তারপর ওর বাবাকে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে একে বের করব। পারলে রুখে দেখান। এই নিয়ে রেজিনগর থেনায় দায়ের হয় এফআইআর।" সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে সেই প্রসঙ্গ টেনেই বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আইনের শাসন কাকে বলে তা এবার টের পাবেন বিতর্কিত এই বিধায়ক।" এই মামলার জেরে ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। 

গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন পুত্র বলেন, "পুলিশ যখন আমাদের বাড়িতে নোটিশ দিতে গিয়েছিল সে সময় আমি বা বাবা কেউই বাড়িতে ছিলাম না।  আমরা কিছু দরকারে বহরমপুরে আছি। পুলিশ মাকে নোটিশ ধরিয়ে এসেছে। আমরা আইন মেনে  যা করা উচিত সেটাই করব।"