খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যায় ভারত সরকারের এজেন্টের ‘যোগ’ রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবার মার্কিন গোয়ান্দা সংস্থা এফবিআই খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের খুনে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারকে অভিযুক্ত করেছে। শুধু তাই নয়, আমেরিকা-কানাডা এবং ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে গ্রেফতারি। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ২৪ জনকে। এই ঘটনায় আমেরিকা এবং কানাডার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত।

অটোয়ায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ কে পট্টনায়ক এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন ভারত বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রগুলির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। তবে এই মুহূর্তের সিদ্ধান্তে আমেরিকা এবং কানাডার পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছে নয়াদিল্লি। কানাডা এবং আমেরিকাতে অনেকদিন ধরেই এই চক্রগুলি হিংসা ছড়াচ্ছিল। কিন্তু এতদিন উদাসীন ছিল প্রশাসন। তবে এখন সেই পদক্ষেপগুলি যথেষ্ট  ইতিবাচক।

২০২৩ সালে কানাডায় নিহত হন নিজ্জর। ট্রুডো অভিযোগ তোলার পরে ভারতের সঙ্গে কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে শুরু হয়েছিল চাপানউতর। অবশেষে এফবিআইয়ের অভিযানের পরে আমেরিকা দাবি করে, নিজ্জরের খুনের নেপথ্যে ছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই এবং তাঁর সহযোগী গোল্ডি ব্রার। উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে অভিযান চালিয়ে ২৪ জনকে গ্রেফতার করে আমেরিকার গোয়েন্দা এবং নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানিয়েছে, নিজ্জরের হত্যায় ভারত সরকারের এজেন্টের কোনও ‘যোগ’ নেই।
প্রসঙ্গত, ঘটনার কয়েক মাস পরে কানাডার পার্লামেন্টে জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ভারত। ২০২৪ সালের মে মাসে নিজ্জর খুনের অভিযোগে চারজন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে গ্রেফতার করে কানাডা পুলিশ। তবে জামিন পান অভিযুক্ত চার ভারতীয় করণ ব্রার, আমনদীপ সিং, কমলপ্রীত সিং এবং করণপ্রীত সিং। আপাতত এই হত্যাকাণ্ডে সব মিলিয়ে তিনটি অপরাধী গোষ্ঠীর ৩৭ জনের নাম জড়িয়েছে। তদন্তের পর কানাডার কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, এই খুনে ভারতের কোনও যোগ নেই।