রাজ্যে পালাবদলের পরে তিনমাসও পূর্ণ হয়নি, তার আগেই ফুলবদলের ধুম পড়ে গিয়েছে। তবে, বিক্ষুব্ধ হয়ে আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করা বা অপরিচিত রাজনৈতিক দলে যোগদান করে এনডিএ-তে সমর্থন করার পরে এই প্রথম তৃণমূল (TMC) ছেড়ে সরাসরি গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন প্রাক্তন তিন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Shekhar Ray), প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব (Susmita Dev)। বৃহস্পতিবার, সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে তাঁদের উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik  Bhattacharya)। হাতে তুলে দেন দলীয় পতাকা। 

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন তৃণমূলের জন্য না কি তাঁদের দলের রাস্তা বন্ধ। তবে, ভালো তৃণমূলের জন্য জায়গা ছেড়ে রেখেছিলেন শমীক। আর এদিন সেই শমীকের হাতে থেকেই পতাকা দিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদ। এদিন বেলা গড়াতেই খবর, এই ত্রয়ী যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। একে একে দলীয় কার্যালয়ে হাজির হন, সুখেন্দু শেখর, প্রকাশ চিক ও সুস্মিতা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এর কিছুক্ষণ পরেই তিন দলত্যাগী তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য ঘোষণা করেন এঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। 

এবার প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি এই তিনজনকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) টিকিট দেবে বিজেপি? কারণ গতমাসে পরপর তিন তৃণমূল সাংসদের পদত্যাগের জেরে ২৪ জুলাই রাজ্যসভায় উপনির্বাচন। সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে এই তিনটি আসনই বিজেপির দখলে যাবে। আর ভাঙনের ফলে তৃণমূল প্রার্থীই দিতে পারবে না। কে হবেন পদ্মশিবিরের প্রার্থী? এই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা ও প্রকাশের বিজেপিতে যোগদান রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। 

যদিও এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার ৯৫%-এর বেশি মানুষ ভোট দিতে পেরেছে নির্ভয়ে। মানুষ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভরসা রাখতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যসভার তিন সাংসদ যাদের পারফরমেন্স প্রতিনিয়ত যোগদান সর্বজন বিধিত। সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এই তিনজন তাদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাদের দলে যোগদান করছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারা কাজ করবেন”। 

শমীকের কথায়, ”তৃণমূল ছেড়ে তিনজন– সুখেন্দুশেখর রায়, ভাই প্রকাশ চিক বরাইক ও সুস্মিতা দেব আজ আমাদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগদান করলেন। মোদির নেতৃত্বে গোটা দেশ এবং পশ্চিমবঙ্গ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে শামিল হতে চেয়েই তাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এলেন। আমরা আগেই বলেছিলাম, যারা চাকরি বিক্রি করেছে, দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের জন্য বিজেপির দরজা বন্ধ। এঁদের কারও বিরুদ্ধে এমন কোনও অভিযোগ নেই। সকলের একটা অতীত থাকে। এখন আর তাঁদের দলত্যাগী  বলবেন না। তাঁদের একটাই পরিচয়, সকলে বিজেপি।” 

বিজেপিতে যোগ দিয়ে সুখেন্দুশেখর জানান, ”আর জি কর আন্দোলনের সময়ে যখন গোটা দেশ রাস্তায় নেমে গিয়েছিল, তখনই তৃণমূলের বুঝে যাওয়া উচিত ছিল যে বিপদঘণ্টা বেজে গিয়েছে। বামেরা শিল্পে খরা করে গিয়েছে। তারপর তৃণমূল এসেও কিছু হয়নি। বাম আমল দেখেছি, কংগ্রেস আমলও দেখেছি। এখন বিজেপিকে একবার সুযোগ দেওয়া উচিত।”

সুস্মিতা দেব বলেন, “বিজেপির যে উত্থান সেটা শুধু বাংলা না আসাম, ত্রিপুরা. ওড়িশা। আমি ফুল টাইম সিরিয়াস রাজনীতিবিদ। আমি অসামে থাকি সেখানকার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি সেই ধরনের উন্নয়ন দরকার অর্থাৎ মেনিফেস্টো তে যা বলা হয়েছে কিন্তু বাস্তবে নেই। এটাই সমস্যা কংগ্রেস আর তৃণমূলের। মোদির সমালোচনা করেন অনেকেই কিন্তু কেউ ছাড়তে পারেন না। যে দূরদৃষ্টি মোদির আছে সেটা দেশের অন্য নেতার নেই। খুব দুঃখ হয়েছে ছোটবেলা থেকে দিদিকে সুতির শাড়িতে দেখেছি কিন্তু এই ধরনের দুর্নীতি যে হতে পারে সেটা বাংলায় এসে দেখেছি, এটা অবিশ্বাস্য। আমি দেশ সেবার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। দুর্নীতি হয়েছে চূড়ান্ত রকমের তৃণমূলে নিচু তলায়। প্রতিটা শব্দ বলে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতিগ্রস্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে দুর্নীতি হয়েছে কেও অস্বীকার করতে পারবে না”।