পুলিশ অনুমতি না-দিলে প্রয়োজনে রিক্সায় দাঁড়িয়ে হলেও একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি পালিত হবে। শুক্রবার থেকে শনিবার- দলের প্রবল টানাপোড়েন মধ্যে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার, স্যোশাল মিডিয়া লাইভ (Social Media Live) করে তৃণমূল সুপ্রিমো জানান, "একুশে জুলাই হবে শহিদ স্মরণে। আমরা অনুমতি চেয়েছি, আমাদের কোনও কর্মসূচিতে পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না।... শুনুন, রিক্সায় দাঁড়িয়ে হলেও প্রোগ্রাম আমাদের হবেই ৷"
শুক্রবার মেট্রোপলিটানে তৃণমূলের (TMC) কার্যালয়টি রীতিমতো দখল করে নেন ঋতব্রত-সহ তাঁর সঙ্গীরা। তখন ভবনে ছিলেন দলের তৎকালীন রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। কিন্তু ভবন দখলে বাধা দেননি। এর পরে বিভিন্ন ঘটনার ঘনঘটার পরে শনিবার তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ-সহ সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক শিবিরে নাম লেখান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তার পরেই স্যোশাল মিডিয়া লাইভ করে ‘গদ্দার’দের ধুয়ে দেন মমতা। তার পরেই একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে জানিয়ে দেন তিনি।
এর আগে রবিবার, ছুটির দুপুরে সভামঞ্চের জায়গা মাপায় বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-কুণাল ঘোষের মতো তৃণমূল নেতাদের নামে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের পুলিশ। তার পরেই প্রায় দুমাস ধরে ওই এলাকায়-সহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করল কলকাতা পুলিশ।
সেই প্রসঙ্গ তুলে এদিন মমতা বলেন, "একুশে জুলাই হবে শহিদ স্মরণে। আমরা অনুমতি চেয়েছি, আমাদের কোনও কর্মসূচিতে পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। একবার ভাবুন তো কেন, ইমাজিন করা যায়...৷ পুলিশ কখনও বলতে পারে যে, আপ টু অগস্ট নো ব়্যালি উইল বি অ্যালাউড ইন কলকাতা সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্থ (কল্পনা করুন... পুলিশ কখনও বলতে পারে, মধ্য থেকে উত্তর কলকাতায় অগস্ট পর্যন্ত কোনও ব়্যালির অনুমতি নেই)। আরে এ আবার কি কথা, এ গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ ? গায়ের জোরে অর্ডার ? এখানে কোনও ১৪৪ নেই, কমিউনাল রাইটসের (সাম্প্রদায়িক হিংসা) কোনও সম্ভাবনা নেই, তো কেন করছেন এসব ? শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রোগ্রামটাকে ভেস্তে দেওয়ার জন্য?"
এরপরই সমস্ত প্রশাসনিক বাধাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ জানান, "শুনুন, রিক্সায় দাঁড়িয়ে হলেও প্রোগ্রাম আমাদের হবেই ৷ আপনারা ট্রেনে আসতে দেবেন না, বাসে আসতে দেবেন না, বেরতে দেবেন না, আমি সব কারসাজি জানি।"
মমতা বলেন, "কিন্তু একটা জিনিস জেনে রাখুন, হৃদয় যখন নাড়া দেয় না, কোনও বাধাই মানে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষাতেই, ২১ জুলাই হবে ৷ বাঁধ ভেঙে দাও... বাঁধ ভেঙে দাও... বাঁধ ভেঙে দাও ভাঙো, সন্ত্রাসের বাঁধ ভাঙো, শহিদ স্মরণে এসো... ৷ কোনখানে আসবেন, সেটা আমরা পুলিশকে অনুমতি চেয়েছি ৷ তা পেলে আপনাদের জায়গাটা জানিয়ে দেব।" এখন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ কোথায় হয় সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
















