Site Logo

আসন পুনর্বিন্যাস করে কলকাতায় পুরভোট: দিনক্ষণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

EBBS DESK·
আসন পুনর্বিন্যাস করে কলকাতায় পুরভোট: দিনক্ষণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন পুনর্বিন্যাস করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে । সোমবার পুরসভার স্বচ্ছতা কর্মসূচির অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari)। জানান, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় (KMC) বোর্ড গঠন হবে।

Sponsored

Sranchi In Article

বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা বদলের পরে, কলকাতা পুরসভাতেও (KMC) প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলে (TMC) ভাঙন ধরে। খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ একে একে বেশিরভাগ কাউন্সিলর, বোরো চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিকে পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসিয়েছে রাজ্য সরকার। পুরসভার বর্তমানে কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকেই (Smita Pandey) প্রশাসক নিয়োগ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “নাগরিক পরিষেবা এক মিনিটের জন্যও বন্ধ রাখা যায় না। তাই বাধ্য হয়েছি প্রশাসক বসাতে।”
আরও খবররাহুলের মৃত্যুর তদন্তে সিআইডি, দিঘায় বাড়ছে নিরাপত্তা বলয়: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ অ্যাপ-এর সূচনায় যোগ দিয়ে পুরবোর্ড গঠনের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ভোটের আগে কলকাতায় ডিলিমিটেশন (Delimitation Kolkata) অর্থাৎ আসন পুনর্বিন্যাস হবে বলেও ঘোষণা করেছেন তিনি। শুভেন্দু জানান, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় বোর্ড গঠন হবে।

এদিন কলকাতা পুরসভায় ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদায়ী মেয়রের পদত্যাগের পর আইনি নিয়ম মেনেই রাজ্য সরকার তিনদিনের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছে।

শুভেন্দুর কথায়, “৮ জুন প্রশাসক বসানো হয়েছে। আগামী ৬ মাস অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্পোরেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। গণতন্ত্রে শেষ কথা মানুষই বলে।“

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুরসভা প্রশাসনের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্রুত নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে সরকার একদিকে গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে পুর প্রশাসনের বর্তমান কাজকর্মের দায়ও নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে।

কলকাতা পুরসভার গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই শহর শুধু কলকাতাবাসীর নয়, গোটা পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের পরিষেবার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরসভার কাজ। পানীয় জল, নিকাশি, সাফাই, পার্ক রক্ষণাবেক্ষণ, জন্ম-মৃত্যুর নথিভুক্তিকরণ, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন থেকে শুরু করে একাধিক পরিষেবা একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। সেই কারণেই নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বিদায়ী কাউন্সিলর, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসককে সহযোগিতার আবেদনও জানান।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল, কলকাতার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্বাচনের পথে এগোতে চায় সরকার। অর্থাৎ আগামী কয়েক মাসে পুরভোটের আগে ওয়ার্ডসীমা পুনর্নির্ধারণের কাজও শুরু হতে পারে।

প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসিয়ে পুর প্রশাসনের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চাইছে সরকার। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ আইনি ও সাময়িক ব্যবস্থা। লক্ষ্য একটাই— নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতেই ফের কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব তুলে দেওয়া।

ফলে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে শুধু পরিচ্ছন্নতার বার্তাই নয়, কলকাতা পুরভোটের সম্ভাব্য রূপরেখাও কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

Sponsored

Merlin In Article

Sponsored

Shyam Sundar In Article

Sponsored

Camelia In Article

Sponsored

Techno India In Article

Sponsored

Probe In Article

Related Articles

More from শিরোনাম

View All →