ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার মামলায় কলকাতা হাই কোর্টের ভর্ৎসনার পরেই তৃণমূলের ‘সুবিধাবাদী’ ও ‘ডিগবাজি’ খাওয়া নেতাদের ধুয়ে দিলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। হাই কোর্টের নির্দেশের পরেই বিধানসভা থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ উল্লেখ করেই কুণাল বলেন, “যারা ভোটের আগে এই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে ভোট লড়ল, এখন ভোটের পর তারা এনিয়ে কথা বলে কী করে?”
তৃণমূলের (TMC) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ( A/C Freeze) মামলায় বড় ঘোষণা করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। অ্যাকাউন্ট (Account) ব্যবহারে অনুমোদন দেওয়া হল মমতা-পন্থী তৃণমূলকে। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজে ওই অ্যাকাউন্টের টাকা খরচ করা যাবে। এর পরেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ও পুলিশকে তিরস্কার করেন বিচারপতি। বলেন, “আপনারা তৃণমূল থেকে লড়ে জিতেছেন। ফ্যাক্ট চেঞ্জ হল আর নিজেরাই অভিযোগ করলেন! ৪ মে-র আগে কেন প্রশ্ন তুললেন না? ১৮ জুনের আগে কেন প্রশ্ন তুললেন না?“ একই সঙ্গে প্রশাসনকে নিশানা করে তিনি বলেন, “এত দ্রুততা কেন? সাধারণ একটা মানুষ এলে পুলিশ (Police) তো এত সক্রিয় হয় না? কী এমন প্রমাণ আপনাদের সন্তুষ্ট করল যে আপনারা ফ্রিজ করে দিলেন? ফলাফল উল্টো হলে কী হত? ফল প্রকাশের পর অভিযোগ করা হচ্ছে।“
সেই প্রসঙ্গে উল্লেখ বিক্ষুব্ধদের তুলোধনা করে কুণাল বলেন, "তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে আজ হাইকোর্টে বড় ডেভলপমেন্ট হয়েছে। কোনও কোনও মহল থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছিল এবং তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়েছে দেখে তারা পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছিল। যারা আজ বিপ্লবী সেজে এই তহবিলের টাকাকে অনৈতিক বলছে, হাই কোর্ট আজ তাদের সব মুখোশ খুলে দিয়েছে।" সরাসরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহাদের (Sandipan Saha) নাম করে তৃণমূল বিধায়ক প্রশ্ন তোলেন, "এই বালিশ চাটা ঋতব্রত, সন্দীপনদের অ্যাকাউন্টে ভোটের আগে ২৫ লক্ষ টাকা করে ঢুকেছে না ঢোকেনি? তৃণমূলের টাকায় ভোটে জিতেছিলেন, তখন তো টাকাটা খারাপ লাগেনি! অভিযোগ করার আগে ওই টাকাটা ফেরত দিলেন না কেন? যখন জানতে পারলেন টাকাটা খারাপ, তখনই ফেরত দিয়ে দেওয়া উচিত ছিল!"
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নাম, প্রতীক ও দলনেত্রীর ছবি ব্যবহার করে জিতে, যাঁরা রাজ্যে পালাবদলের পরেই হাওয়া মোরগের মতো ঘুরে গিয়েছেন, তাঁদের তীব্র আক্রমণ করে কুণাল বলেন, "বিধায়ক হওয়ার আগে এরা দিদির পাশে ঘুরঘুর করত, অভিষেকের চেয়ারের পাশে জায়গা না পেলে পারলে হাতলে বসে পড়ত। ১৯৯৮ সালে তৈরি হওয়া একটা সর্বভারতীয় দলের নিজস্ব তহবিল থাকবে না? এখানে আসলে কিছু বকলেস পরানো, পোষা বিরোধী তৈরি করা হয়েছে। এই সুযোগসন্ধানী, দ্বিচারী, ধান্দাবাজ আর সুবিধাবাদীগুলোকে আজ কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে চিনিয়ে দিয়েছে।"
পরে এই বিষয় নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলেও (X Handle) পোস্ট করেন কুণাল। লেখেন,
"Breaking: তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে হাই কোর্ট:
১) দৈনন্দিন খরচ করতে পারবে তৃণমূল। কাজ করতে পারবে। স্পেশাল অফিসার দেখবেন। ২) যারা ভোটের আগে এই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে ভোট লড়ল, এখন ভোটের পর তারা এনিয়ে কথা বলে কী করে? ৩) অ্যাকাউন্ট বন্ধের অভিযোগে উপযুক্ত প্রমাণ কই?"
Breaking: তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে হাইকোর্ট:
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) July 9, 2026
1) দৈনন্দিন খরচ করতে পারবে তৃণমূল। কাজ করতে পারবে। স্পেশাল অফিসার দেখবেন।
2) যারা ভোটের আগে এই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেরা নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা নিয়ে ভোট লড়ল, এখন ভোটের পর তারা এনিয়ে কথা বলে কী করে?
3) অ্যাকাউন্ট বন্ধের…
















