একে একে হাত ছাড়ছেন বিশ্বস্ত সঙ্গীরা। এবার তালিকায় মদন মিত্র (Madan Mitra)। মঙ্গলবার, তৃণমূল (TMC) থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহার (Sandipan Saha) বাড়িতে যাওয়ার পরের দিনই বিধানসভা গিয়ে স্পিকার স্বীকৃত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrato Banerjee) সঙ্গে দেখা করলেন কামারহাটির বিধায়ক। বুধবার, সেই ঘর থেকে শিবির বদলের কথা ঘোষণা করেন মদন। জানান, মমতা-পন্থী তৃণমূলের সব পদ তিনি ছেড়ে দিচ্ছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্ন জবাবে মদন বলেন, ”তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে।”

ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অনুব্রত মণ্ডলের পরে এবার শিবির বদল মদনের। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের পরিবারের সদস্যদের তলব করেছে ইডি। তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্রকে ইডি (ED) নোটিশ পাঠানোর পরেই মঙ্গলবার রাতে সন্দীপন সাহার বাড়ি যান মদন মিত্র। এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন ঋতব্রত শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সেই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। সন্দীপনের বাবা মদনের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন মদন। তখনই তাঁর শিবির বদলের জল্পনা তৈরি হয়।

সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে এদিন দুপুরেই। এদিন সকালে বাড়ি থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছোন মদন। তার পরেই ঋতব্রতর ঘরে ঢুকে যান। কিছুক্ষণ বৈঠকের পরে, ঋতব্রতের পাশে বসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয় দু’লাইনের কবিতা বলেন মদন। বলেন, “জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম।”

মদনের কথায়, ”তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে।” মমতার এককালের ছায়াসঙ্গী মদন দলনেত্রী সম্পর্কে বলেন, “দীর্ঘ দিন তিনি আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” এর পরেই মদনের সংযোজন, “দুঃখের বিষয় যখন বাংলার এই সময় নিয়ে ইতিহাস লেখা হবে, তখন লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩ আসন পেয়েছিল, তার সর্বনাশ হয়ে যায়।”