শিবির বদলেই তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) সরাসরি আক্রমণ মদন মিত্র, অনুব্রত মণ্ডলদের। বুধবারই মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মদন। আর তার পরেই অভিষেককে নিশানা করেন তিনি। তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি অভিষককেই দায়ী করেন। মদনের কথায়, "আমার তো ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল AB। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, ওখানে AB কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে।" আর এক ধাপ এগিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandol)। গরু পাচার মামলায় অভিষেকের জন্যই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ বীরভূমের কেষ্টদার। এর কিছুক্ষণ করেই স্যোশাল মিডিয়া লাইভে এসে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, অভিষেক হল বাহানা। এই বাহানা করে সুবিধাবাদীরা শিবির বদলাচ্ছেন। আর অভিষেক বুক চিতিয়ে লড়ে  যাচ্ছেন। 

এদিনই মমতা শিবির থেকে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেন কামারহাটির বিধায়ক। এর পরেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “তৃণমূলের হাল যদি এখনই ধরা না যায় তাহলে বিজেপিকে কোনও দিন হারানো যাবে না। অভিষেককে দিয়ে বিজেপিকে হারানো যাবে না। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। প্লেন থেকে নেমে কোমরে হাত দিয়ে, ৪ তারিখ দেখে নেব বললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।”

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের (Madan Mitra) পরিবারের সদস্যদের তলব করেছে ইডি। সেই ভয়েই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি- এই অভিযোগ উড়িয়ে মদন বলেন, "আমার তো ইডি-র চেয়ে বেশি ভয় ছিল AB। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞেস করবে, ওখানে AB কখন কোথায় তাড়িয়ে দেবে কে জানে।" 

এই সুরেই অভিষেককে নিশানা করেন অনুব্রতও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে কয়েকদিন আগেই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনিও। ঋতব্রত শিবিরের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত। এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।" এদিন গোলপার্কে ঋতব্রত-তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার আগে বিস্ফোরক অভিযোগ করে অনুব্রত বলেন, “বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হত।” রাজনৈতিক মহলের দাবি দুর্নীতি মামলা থেকে বাঁচাতেই শিবির বদলেছেন অনুব্রত। সেই দাবি উড়িয়ে তিনি বলেন, "ওসব বাজে কথা। আমি ওসবে ভয় পাই না। জানো না নাকি? জেগে ঘুমান?" 

অনুব্রতকে দলনেত্রী ফোন করেছিলেন? প্রশ্নে জবাবে তাঁর দাবি, "চার বার ফোন করেছিল নির্বাচনে হারার পর। আমি বলেছিলাম, 'চোখে দেখো না, কানে দেখো তুমি'।" অনুব্রতর কথায়, “আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। শেষ হয়ে যাবে।”

এর পরেই শিবির বদল করা সুবিধাবাদীদের তীব্র নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেককে নিশানা করায় পাল্টা তোপ দাগেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেন, "ওটা বাহানা। বাহানা দেখিয়ে চলে যাচ্ছেন।" মমতার কথায়, "অভিষেক যদি কোনও অন্যায় করেও থাকে, ওঁর বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মামলা করেছে। ওঁর স্ত্রী শিশু কোলে নিয়ে এজেন্সির কাছে গিয়েছে। ওঁরা তো বোঝাপড়া করে নিতে পারত।" 

এরপরেই বিজেপির দিকে আঙুল তুলে তৃণমূল সভানেত্রী বলেন, "অভিষেক নাকি ডিজে বাজানোর কথা বলেছিলেন। অমিতবাবু (অমিত শাহ) আপনিও তো অনেক কথা বলেছিলেন। ভোটের সময়ে অনেক কথা বলা হয়। যা করছেন, মানুষ এক দিন তার জবাব দেবে।"